Cvoice24.com

টেকনাফে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার

উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৪:৩৮, ৪ নভেম্বর ২০২৬
টেকনাফে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চারজনকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উলুচামরী ও লেচুয়াপ্রাং এলাকার মধ্যবর্তী পাহাড়ের একটি পেয়ারা বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়িয়েছে। 

এর আগে সকালে পশ্চিম পানখালী এলাকা থেকে মোক্তার আহমদ নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১টার দিকে পাহাড়ের পেয়ারা বাগানে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে তাকে এ ঘটনায় নিখোঁজ থাকা চতুর্থ ব্যক্তি আলী আকবর বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

এর আগে সকাল ৭টার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গুরুতর আহত তিনজনকে পশ্চিম পানখালী ভিলেজার পাড়া টিলার পশ্চিম পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় এক কৃষক তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে যান। 

এ সময় আহতদের মধ্যে মোক্তার আহমদ (৪০) কিছুক্ষণ পর মারা যান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ এবং আহত দুজনকে উদ্ধার করা হয়।

নিহত মোক্তার আহমদ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। আহত দুজন হলেন— তুলাতলী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াছ (৩৫) ও আমির হোসেনের ছেলে আলী আহমদ (২৬)।

উদ্ধার হওয়া ইলিয়াছের দাবি, মাদকের একটি চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি দলের কাছে হস্তান্তরের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। পথে একটি ডাকাত দল চালানটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার হলেও বাকি ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

ইলিয়াছ জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার মিজান তাদের চারজনকে বিচারের কথা বলে সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে হ্নীলার একটি দলের হাতে তুলে দেন। পরে তাদের পাহাড়ে নিয়ে মারধর করা হয়। এতে মোক্তার আহমদের মৃত্যু হয়। অন্যরাও গুরুতর আহত হন। 

তার দাবি, এ ঘটনায় নিখোঁজ থাকা চতুর্থ ব্যক্তি আলী আকবরও নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। তবে মাদক চালানের মালিক হিসেবে হ্নীলা এলাকার একজনের কথা উল্লেখ করলেও তার নাম প্রকাশ করেননি ইলিয়াছ।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে একজনের মরদেহ ও আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পৃথক আরেকটি স্থান থেকে আরও একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পূর্ববিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।