টেকনাফে পাহাড় থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার, আহত ২; নিখোঁজ ১
উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
ইয়াবার চালান ছিনতাই ও এর টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে কক্সবাজারের টেকনাফে চারজনকে পাহাড়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোক্তার কামাল নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন উদ্ধার হওয়া একজন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট কার্যালয়ের পাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে মরদেহ ও আহত দুজনকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে বন বিট কার্যালয়ের পাশের পাহাড়ি এলাকায় কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে যান। সেখানে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তার পরিচয় মোক্তার কামাল হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার বাসিন্দা।
এ সময় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে ইলিয়াস এবং একই এলাকার আলী আহমদকে।
উদ্ধার হওয়া ইলিয়াসের দাবি, ইয়াবার একটি চালান চেকপোস্ট পার করে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি দলের কাছে হস্তান্তরের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। পথে একটি ডাকাত দল চালানটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের বিপরীতে ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হলেও বাকি ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
ইলিয়াস জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার মিজান তাদের চারজনকে বিচারের কথা বলে সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে হ্নীলার একটি দলের হাতে তুলে দেন। পরে তাদের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ইলিয়াসের আরও দাবি, নির্যাতনের ঘটনায় তিনি ও আলী আহমদ আহত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে থাকা চতুর্থ ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ওই ইয়াবার চালানের মালিক হ্নীলা এলাকার একজন মাদক কারবারি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মাদক চালান ছিনতাই, টাকা আত্মসাৎ এবং নির্যাতনের অভিযোগ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই স্থান থেকে আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার সব খবর















