Cvoice24.com

চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে অপহরণের নাটক, অতঃপর ধরা

লোহাগাড়া প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৭:০৭, ৩ নভেম্বর ২০২৬
চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে অপহরণের নাটক, অতঃপর ধরা

চুরির ঘটনা আড়াল করতে নিজের অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগে মো. রেদুয়ানুল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুরির পর আত্মগোপনে থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করেছে বলে স্ত্রীকে দিয়ে থানায় অভিযোগ করান তিনি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চুরির ঘটনা। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ক্যামেরা ও সরঞ্জাম।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে লোহাগাড়া থানা পুলিশের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী। এ সময় লোহাগাড়া থানা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, গত ৯ অক্টোবর রাত সোয়া ১০টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের প্রথম তলায় অবস্থিত ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ দোকানটি বন্ধ করে প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যান মালিক বাবলু পাল। পরদিন ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকানে ফিরে তিনি স্লাইডিং গ্লাসের দরজার তালা খোলা দেখতে পান। পরে দোকানের ভেতরে থাকা মূল্যবান ক্যামেরা ও সরঞ্জাম চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।

চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে তিনটি সনি ক্যামেরা, একটি সনি ক্যামেরা, বিভিন্ন মডেলের আটটি ক্যামেরার লেন্স, দুটি ক্যামেরার ব্যাটারি ও একটি চার্জার। এসব সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা।

এদিকে, গত ১২ অক্টোবর রেশমী আক্তার নামে এক নারী থানায় অভিযোগ করেন, তার স্বামী মো. রেদুয়ানুল হককে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের ওয়েডিং ফটোগ্রাফি দোকানসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। এতে চুরির ঘটনায় রেদুয়ানুল হকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তার কথিত অপহরণের অভিযোগের পেছনেও ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি পুলিশের সন্দেহের তালিকায় আসে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা আওয়ার পাড়া এলাকা থেকে রেদুয়ানুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর রাতভর অভিযান চালিয়ে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বসতঘর থেকে চুরি হওয়া সব ক্যামেরা ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রেদুয়ানুল হক চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির ঘটনা আড়াল করে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নিজেই আত্মগোপনে থেকে স্ত্রীকে দিয়ে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করানোর কথাও স্বীকার করেন তিনি।

পরে তার বিরুদ্ধে চুরির মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর