Cvoice24.com

পে স্কেল জটিলতা, বেতন পাননি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কর্মীরা

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৭:৫৮, ২ নভেম্বর ২০২৬
পে স্কেল জটিলতা, বেতন পাননি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কর্মীরা

নতুন পে স্কেলে বেতন নির্ধারণের ফাইল যথাসময়ে ঢাকায় না পৌঁছানোয় অক্টোবর মাসের বেতন পাননি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ ঘটনায় প্রশাসন শাখার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। বেতন আটকে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন কর্মীরা দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বেতন না পাওয়ার কারণ জানতে বিমানবন্দরের পরিচালকের দপ্তরে জড়ো হন ভুক্তভোগী কর্মীরা। এ সময় তারা দ্রুত বেতন পরিশোধের পাশাপাশি এ ঘটনায় কারও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানান।

বিমানবন্দর কর্মচারী কল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক হাকিম সরকার বলেন, প্রতি মাসের ১ তারিখ কর্মীদের বেতন দেওয়া হয়। ওই দিন শুক্র বা শনিবার হলে পরদিন বেতন হয়। এবার বেতন না হওয়ায় বিষয়টি জানাতে তারা পরিচালকের কাছে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে, এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিচালক স্যার আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।’

কর্মীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে হাকিম সরকার বলেন, তাদের অনেকে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্ট্রোক করে হাসপাতালে রয়েছেন। বেতন পাওয়ার পর সহকর্মীরা তাকে আর্থিক সহযোগিতা করার কথা ছিল। কিন্তু তিনিও বেতন পাননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার ঘোষিত নতুন নবম পে স্কেলে বেতন নির্ধারণের কাজ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) অধীন অন্যান্য বিমানবন্দরে সম্পন্ন হয়েছে। তবে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত সময়ে পে ফিক্সেশনের ফাইল ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, ৩১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সার্ভিস বইসহ পে ফিক্সেশনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিমানবন্দরের হিসাব শাখা গত ১৮ অক্টোবর প্রশাসন শাখার কাছে হস্তান্তর করে। তবে প্রশাসন শাখার দায়িত্বে অবহেলার কারণে সেগুলো সদরদপ্তরে যথাসময়ে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. নূর হোসেন বলেন, ‘নতুন পে স্কেলের জন্য কয়েকটি আউটস্টেশনের কর্মীদের সার্ভিস বই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেরিতে আসায় সেগুলো জমা দিতে বিলম্ব হয়েছে। এ অবস্থায় কেউ নতুন স্কেলে আর কেউ আগের স্কেলে বেতন পান— এমন পরিস্থিতি তারা চাননি। আশা করছেন, সবাই একসঙ্গে বেতন পাবেন।’