Cvoice24.com

সাজেক সড়ক সচলের দাবিতে দীঘিনালায় পরিবহন শ্রমিকদের অবরোধ

দীঘিনালা প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৫:১৮, ১ নভেম্বর ২০২৬
সাজেক সড়ক সচলের দাবিতে দীঘিনালায় পরিবহন শ্রমিকদের অবরোধ

সাজেক সড়ক দ্রুত উন্মুক্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবিতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সড়ক অবরোধ করেছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। এতে সড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।

শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, সাজেক সড়ক দ্রুত উন্মুক্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক না করা হলে তাদের কর্মসূচি আরও জোরালো করা হবে।

এর আগে, টানা অবরোধের নবম দিনে রবিবার ১২ ঘণ্টার জন্য সাজেক সড়কের অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেয় সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠন দুটির নেতা বাবুধন চাকমা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এ ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী, রবিবার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা। তবে ২ নভেম্বর থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

বাবুধন চাকমা বলেন, দীর্ঘদিনের অবরোধের কারণে সাজেক ইউনিয়নের বাসিন্দারা খাদ্যসংকটে পড়েছেন। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফল ও ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান হবে, সেসব এলাকায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেও অবরোধ শিথিল রাখা হবে।

গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ করছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠন দুটির অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। তাদের সরিয়ে নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে এ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি।

টানা অবরোধে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এতে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও ওষুধের সংকটের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। যান চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আইয়ুশ চাকমা বলেন, সাজেক সড়ক অবরোধের কারণে যানবাহন খাতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। প্রায় এক হাজার চালক ও সহকারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতেও এক হাজারের বেশি শ্রমিক ও মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে সাজেকের পর্যটননির্ভর অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে কয়েক দফায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বাঘাইছড়িতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকেও অবরোধকারীদের দাবি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।