প্রবারণা শেষে আজ থেকে শুরু কঠিন চীবর দান
নিউজ ডেস্ক, সিভয়েস২৪
তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমার পর শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম কঠিন চীবর দান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে এ উৎসব উদ্যাপিত হবে।
বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, বর্ষাবাস পালনকারী ভিক্ষুদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কঠিন চীবর দান করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মে এ দানকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও মহাপুণ্যময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, একটি বিহারে বছরে একবারই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা, প্রার্থনা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপাসক-উপাসিকারা বিহারে সমবেত হয়ে ভিক্ষুদের চীবর দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেন।
এদিকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বৌদ্ধ বিহারগুলোর কঠিন চীবর দানের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী এক মাসে নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বিভিন্ন বিহারে এ দান অনুষ্ঠিত হবে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পশ্চিম আধার মানিক নিবোধিসারাম বিহার, উত্তর ডাবুয়া বেণুবন বৌদ্ধ বিহার ও হরিণা অমৃতধাম বিহারে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া মিরসরাইয়ের জোয়ারগঞ্জ শোকানন্দন বৌদ্ধ বিহারেও একই দিনে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় আটটি বনবিহার ও ৩৯টি বৌদ্ধ বিহারে মাসব্যাপী দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব আজ থেকে শুরু হয়েছে। উপজেলায় আজ সোমবার ধাম্মাচারিয়া বৌদ্ধ বিহার, দক্ষিণ উদাল বাগাম, বোয়ালখালী দশবল বৌদ্ধ রাজ বিহারে দানশ্রেষ্ঠ এ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে কঠিন চীবর দান ত্যাগ, সংযম, দানশীলতা ও ধর্মীয় অনুশীলনের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুদের চীবর দানের মধ্য দিয়ে উপাসক-উপাসিকারা পুণ্য অর্জনের পাশাপাশি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে এ উৎসবে অংশ নেন।
পাহাড় সব খবর















