Cvoice24.com

দীঘিনালা–সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, উজোবাজারে দোকানপাট বন্ধ

রাঙামাটি প্রতিবেদক, সিভয়েস২৪
১৯:০৬, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
দীঘিনালা–সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, উজোবাজারে দোকানপাট বন্ধ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা–সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উজোবাজার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে বন্ধ রয়েছে দোকানপাটও। অন্যদিকে, প্রশাসনের বিধিনিষেধের কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সাজেক। এতে দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের আগাম বুকিং বাতিল হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে শুক্রবার সকাল থেকে দীঘিনালা–সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার উজোবাজার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে সেখানকার সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সড়কটিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, অবরোধের কারণে বুধবার সন্ধ্যা থেকে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করে জেলা প্রশাসন। এরপর থেকে সাজেকে পর্যটকদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এতে দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের আগাম বুকিং বাতিল হচ্ছে।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘আমাদের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকালে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে অবরোধ পালন করা হয়েছে। আমাদের অবরোধ চলমান থাকবে।’

সাজেক রুইলুই হলিডে রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রাশু চাকমা বলেন, দুর্গাপূজার আগে থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত তাদের রিসোর্টের শতভাগ কক্ষ বুকিং ছিল। তবে বৃহস্পতিবারের অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনার পর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অবশিষ্ট বুকিংও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, সাজেকের বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে ২৫, ২৮ ও ৩০ তারিখ পর্যন্ত কক্ষ বুকিং ছিল। কিন্তু অবরোধ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেসব বুকিং বাতিল হচ্ছে। শুক্রবারও অনেক পর্যটক বুকিং বাতিল করেছেন। এভাবে পর্যটক আসতে না পারলে সাজেকের পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, উজোবাজার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল চলছে। তবে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, শনিবার ভোর থেকে অর্ধদিবসের জন্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার সড়ক ও নৌপথে অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সড়ক অবরোধের কারণে সাজেক থেকে আসা পর্যটকবাহী গাড়ির বহর উজোবাজারে আটকে দেন অবরোধকারীরা। পরে আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

পাহাড় সব খবর