Cvoice24.com

সাজেকে ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ, সেনাবাহিনী-পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৬:৫২, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সাজেকে ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ, সেনাবাহিনী-পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক

রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আইএসপিআরের তথ্যমতে, আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। তবে সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে বলে আইএসপিআরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং যান চলাচল পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেয়।

আইএসপিআরের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবরুদ্ধ পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

আইএসপিআরের তথ্যে আরও বলা হয়, প্রাথমিকভাবে অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।

আইএসপিআরের বক্তব্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।

আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেও সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।