Cvoice24.com

এই দেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবার

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
২৩:৫২, ২০ অক্টোবর ২০২৬
এই দেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবার

বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের দেশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, 'ধর্মীয় পরিচয় নয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের জন্য রাষ্ট্র সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করবে।'

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, 'আমি একজন মুসলমান। আমাকে রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল। মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশে আমি হয়তো সংখ্যাগুরু। কিন্তু এই দেশের ওপর আপনার যে অধিকার আছে, এই দেশের ওপর আমারও সেই অধিকার আছে। এই রাষ্ট্র আপনাকে যা দেবে, এই রাষ্ট্র আমাকেও তাই দেবে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, '১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তখন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান—তা বিবেচনা করা হয়নি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা।'

তিনি বলেন, 'স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ছাত্র-জনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন। কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কেউ সহযোদ্ধার ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি।'

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, 'ওই আন্দোলনে বিভিন্ন বয়সের লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। তাঁদের কারও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। স্বৈরাচার ক্ষমতায় টিকে থাকতে গুলি চালালে অনেকে শহীদ ও আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করা হয়নি।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সবার। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠা সব মানুষই এ দেশের নাগরিক। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়ই সবার অভিন্ন পরিচয়।'

শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, '১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার বিভিন্ন আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং সবাই মিলেমিশে থাকবে।'

তিনি বলেন, 'আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই বাংলাদেশটি, প্রত্যাশিত বাংলাদেশটি গড়ে তুলি, যেই বাংলাদেশের জন্য দল, মত, ধর্ম, বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন সময়ে অকাতরে আমরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছি। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—সবার সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।' 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে রংপুর ও রাজশাহীতে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রাতে চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।