বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখছে যুক্তরাজ্য
সিভয়েস২৪ ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আরও উন্নতি হয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম সহিংস ছিল। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করা এবং মতপ্রকাশের সুযোগও বেড়েছে।
‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্য সরকার তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে (www.gov.uk) প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও উন্নতি ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল পেরিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে এ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তিন কর্মকর্তা ২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশে তথ্য-অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং ওই বছরের আগস্টের শুরুতে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্রের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন তারা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, সাংবাদিক ও গবেষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এতে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাও হ্রাস পেয়েছে।
যেসব রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা এখনো ঘটছে, সেগুলো সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিজেদের মতামত প্রকাশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং জনআলোচনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগও বেড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, প্রচার, প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছেন এবং এ ধরনের অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত ২১ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার কাজ এখনো চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা তথ্য-অনুসন্ধান মিশনকে জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তারা তুলে ধরেছেন।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নতি, সহিংসতা হ্রাস, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং ২১ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহারের তথ্য উঠে এসেছে।
জাতীয় সব খবর















