Cvoice24.com

কাপ্তাইয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন, সম্পন্ন দুর্গোৎসব

কাপ্তাই প্রতিনিধি
২৩:২৩, ২১ অক্টোবর ২০২৬
কাপ্তাইয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন, সম্পন্ন দুর্গোৎসব

‘আসিছে বছর আবার ফিরে’—এই প্রত্যাশা আর বিষাদমাখা বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দশমীর পূজা, অঞ্জলি নিবেদন ও বিজয়ার সিঁদুর খেলা শেষে বুধবার (২১ অক্টোবর) রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।


দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে কর্ণফুলী নদীর ঘাটে ভিড় করেন হাজারো ভক্ত। আনন্দ ও বিষাদের আবহে উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যে মুখর হয়ে ওঠে নদীতীর। মায়ের বিদায়লগ্নে অনেক ভক্তের চোখে ছিল অশ্রু। আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশায় তাঁরা প্রার্থনা করেন।


এ বছর কাপ্তাইয়ের নয়টি মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত থাকলেও প্রশাসনের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিসর্জন শুরু হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে এ কার্যক্রম শেষ হয়।


বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের তৎপরতায় প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।


বিসর্জনকে ঘিরে কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে কর্ণফুলী নদীতে আয়োজন করা হয় ‘বিজয়া নৌ র‍্যালি-২০২৬’। শত শত ভক্ত ইঞ্জিনচালিত বোটে অংশ নেন। ঢাকঢোল, কাঁসর ও খঞ্জরার তালে নাচ-গানে মুখর হয়ে ওঠে নদী। পন্টুন ও ফেরিঘাট এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশের।


বিসর্জন শেষে ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করেন এবং আগামী শরতে আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশা জানান।


এর আগে পূজা ও বিসর্জন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির সভাপতি জগদীশ চন্দ্র দাশ। প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য উথোয়াই মং মারমা। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।