দুই ঘণ্টার গোলাগুলির পর সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, আহত অন্তত ৬
রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজারে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রায় দুই ঘণ্টা গুলিবিনিময়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ঘটনায় ইটের আঘাতে সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন এবং পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার জানান, সাজেক থেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে সকাল ৯টায় রওনা হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সকাল ১১টার দিকে উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তাঁরা। এ সময় অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন এবং পুলিশের দুই সদস্য আহত হন।
এর মধ্যেই পর্যটকেরা নিরাপদে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ওই এলাকা ছেড়ে যান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তাঁরা পাল্টা গুলি চালান। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে প্রায় দুই ঘণ্টা গুলিবিনিময় চলে।
পুলিশ সুপার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং উজোবাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সব পর্যটক নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছেছেন। পুরো ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার বিকেলে সাজেকে জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসীদের অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে সব ধরনের পর্যটক চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবরোধকারীরা উজোবাজার এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পরে অবরোধের সমর্থনে কয়েক শ নারী-পুরুষ সড়কে বসে পড়েন।
সাজেক থেকে ফেরা পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অবরোধকারীদের আলোচনা হয়। তবে অবরোধকারীরা সড়ক ছাড়তে রাজি হননি। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয়।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ প্রত্যাহার না হলেও বর্তমানে সড়কটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পাহাড় সব খবর















