দোকানের সামনে ময়লা পেলেই জরিমানা, দোকানদারদের ডাস্টবিন রাখার নির্দেশ
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
দোকানের সামনে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। মহানগরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিটি দোকানের সামনে ময়লা ফেলার ঝুড়ি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১ নভেম্বর) নগরের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জনদুর্ভোগ কমাতে চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের নয়, নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিভিন্ন সংস্থাকে দোষারোপ করার পাশাপাশি নিজেদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রত্যেক দোকানদারকে নিজস্ব ডাস্টবিন রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন রাত ১১টায় ময়লা সংগ্রহের জন্য গাড়ি নিয়ে আসেন। এরপরও দোকানের সামনে যত্রতত্র ময়লা ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নগরের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে চসিক প্রশাসক বলেন, এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন খালে চলমান উন্নয়ন ও খননকাজের কারণে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। খনন করা মাটি সড়কে পড়ে থাকায় মানুষের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) সড়কে পড়ে থাকা খননের মাটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের কাজও দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করে ড্রেনের মাটি ও বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
দোকানদারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিটি দোকানের সামনে একটি করে ময়লা ফেলার ঝুড়ি রাখতে হবে। কোনো দোকানের সামনে ময়লা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে জরিমানার আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে চসিক প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। ডাবের খোসা, প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, নগরবাসীর সেবা ও দুর্ভোগ লাঘবে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের পাশাপাশি নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতেও সিটি করপোরেশন আন্তরিক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।
এ সময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর













