চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশের টিকিট এখন ‘প্লাস্টিক বর্জ্য’
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পেতে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা এসব প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) চিড়িয়াখানা ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা এবং মশকনিধন এ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। জনসচেতনতামূলক র্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সংগৃহীত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের জন্য ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ উদ্যোগের আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনামূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। চিড়িয়াখানাটির সাধারণ প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৭০ টাকা।’
চিড়িয়াখানায় জেব্রা ও কুমির আনার উদ্যোগের কথাও জানান জেলা প্রশাসক। শিশুদের মুঠোফোনের পর্দার বাইরে এসে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘একক কোনো সংস্থার পক্ষে পুরো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
ফয়’স লেকসংলগ্ন চিড়িয়াখানা, পাহাড়ি ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধার দূষণমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ফুটপাত ও সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল ও ডাবের খোসা যত্রতত্র না ফেলার অনুরোধ জানান শাহাদাত হোসেন। বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনায় পানি জমতে না দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি। এ সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক সিটি করপোরেশনে যুক্ত করা হবে বলে জানান।
জেলা প্রশাসক জানান, গত ২৫ জুলাইয়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে তিন হাজারের বেশি সরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি বর্গফুট এলাকা থেকে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এতে অংশ নেয় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ২ হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে কাজীবাড়ি পুকুর, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রায় ১০০টি হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘর ও আশপাশ পরিষ্কারের কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান চলছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান (সি), পিসিএসসি, বিএন এবং জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর















