Cvoice24.com

১০ মাসের লড়াই শেষে ক্যামেরার সামনে তানিয়া বৃষ্টি

বিনোদন ডেস্ক
১১:৩৬, ১ নভেম্বর ২০২৬
১০ মাসের লড়াই শেষে ক্যামেরার সামনে তানিয়া বৃষ্টি

মৃত্যুর আশঙ্কা, হাসপাতালের আইসিইউ আর দীর্ঘ চিকিৎসার কঠিন সময় পেরিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। প্রায় ১০ মাসের দীর্ঘ বিরতি শেষে শুটিংয়ে ফিরে নতুন করে জীবন শুরুর অনুভূতি হচ্ছে তার। নিজের এই ফিরে আসাকে দ্বিতীয় জন্মের সঙ্গে তুলনা করেছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসা এবং অভিনয়ে ফেরার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তানিয়া বৃষ্টি। জানান, গত কয়েক মাস তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি এবং লাইফ সাপোর্টের মতো সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসার সময় এক চিকিৎসক তার আয়ু নিয়ে মাত্র সাড়ে চার থেকে পাচ বছরের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। এমন কথা শোনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি। পরিবারের ভালোবাসা, চিকিৎসকদের সহযোগিতা এবং নিজের মনোবল নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন।

দীর্ঘ বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরেছেন তানিয়া। এতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে নাটকের গল্প এগিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তার চরিত্রটি।

তানিয়া জানান, দীর্ঘদিন শুটিংয়ের বাইরে থাকায় কাজের পরিবেশকে খুব মিস করছিলেন। সহকর্মীদের তিনি পরিবারের সদস্যের মতো মনে করেন। তাই শুটিংয়ে ফিরে মানসিকভাবেও অনেকটা স্বস্তি পেয়েছেন। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সহযোগিতা করেছেন।

তবে কাজে ফেরার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। চিকিৎসকেরা শুরুতে তাকে শুটিংয়ের অনুমতি দিতে চাননি। কারণ, এখনো তার চিকিৎসা চলছে। কেমোথেরাপির আরও দুই মাসের কোর্স বাকি। শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা থাকলেও মানসিকভাবে ঘরে বসে থাকতে না পেরে অনুরোধ করে একটি নাটকে কাজ করার অনুমতি নেন তিনি।

তানিয়া বৃষ্টির অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় তার। প্রথম দিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে টানা চার দিন ব্যথা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে বমি শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে।

শুরুতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা থাকলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। ঢাকায় প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এমনকি পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে বিদায়ের মতো করেও কথা বলেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও পাশে মা ও বোনকে পেয়ে সাহস ফিরে পান।

অভিনেত্রীর কাছে এই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল পরিবারের ভালোবাসা ও প্রার্থনা। বিশেষ করে মা রাত জেগে তার সেবা করেছেন। পাশাপাশি সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তার খোঁজখবর নিয়েছেন।

বর্তমানে আগের তুলনায় শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তানিয়া। স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনো চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।

কেমোথেরাপির নির্ধারিত কোর্স শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে টিউমারের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করবেন চিকিৎসকেরা।

অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যু নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়েছিল। সেই কঠিন সময় পেছনে ফেলে এখন নতুন উদ্যমে জীবন ও ক্যারিয়ার সাজানোর স্বপ্ন দেখছেন এই অভিনেত্রী। ২০১২ সালে ভালোবাসা থেকেই অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পরও সেই ভালোবাসা ও আগ্রহ অটুট রয়েছে তার।

জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে তানিয়ার বার্তা—রোগের নাম শুনেই যেন কেউ মনোবল হারিয়ে না ফেলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা, মানসিক শক্তি ধরে রাখা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনের কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে তানিয়া বৃষ্টির এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু অভিনয়ে ফেরা নয়, তার কাছে নতুন করে বেঁচে থাকার আনন্দও।