চার দিন কমবে গ্যাস সরবরাহ, তবে...
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে আগামী চার দিন জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমবে। এতে চট্টগ্রাম অঞ্চলেও দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমতে পারে। তবে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক কম পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, সরবরাহ কমলেও চট্টগ্রামে গ্যাসের বড় ধরনের সংকট হওয়ার আশঙ্কা কম।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পেট্রোবাংলার অপারেশন বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. নাহিদ আলম এ তথ্য জানান।
পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে আগামী ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে। ফলে সারা দেশে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার অপারেশন বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, শীত মৌসুমের আগে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে এ কাজ করা হচ্ছে। এ সময় একটি টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও অন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। ফলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, উৎসের কাছাকাছি হওয়ায় চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে সারা দেশে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। তবে কেজিডিসিএল সরবরাহ ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারলে আবাসিক গ্রাহকেরা তেমন ভোগান্তি টের পাবেন না। এ সময়ে সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় অন্য খাতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হবে বলেও জানান তিনি।
কেজিডিসিএলের অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. নাহিদ আলম বলেন, বর্তমানে তাদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ প্রায় ২৫০ থেকে ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে তা কমে ২৩০ থেকে ২৩৪ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে। ফলে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব খুব বেশি পড়বে না বলে তারা আশা করছেন।
তবে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চয়তা দিতে চাননি এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সংকট দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কোনো শিল্পকারখানা বেশি গ্যাস ব্যবহার করলেও সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। কেন্দ্রীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহারের ওপর নজরদারির ব্যবস্থা না থাকায় এসব বিষয়ে আগাম নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
অর্থ-বাণিজ্য সব খবর















