Cvoice24.com

ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশিসহ ৩১ দেশের ক্রু নিষিদ্ধ করল এয়ার ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১:৫৬, ১২ অক্টোবর ২০২৬
ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশিসহ ৩১ দেশের ক্রু নিষিদ্ধ করল এয়ার ফ্রান্স

বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদন সূত্রে মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবগামী ফ্লাইটে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলের দেওয়া শর্ত মেনে নিয়েছে এয়ার ফ্রান্স। এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান ও পাকিস্তানসহ ৩১টি দেশের নাগরিক কিংবা এসব দেশের সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে—এমন কর্মীরা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশনায় সরাসরি কোনো ধর্মের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার কারণে সিদ্ধান্তটি বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর এ বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, নিরাপত্তার যুক্তিতে জাতীয়তার ভিত্তিতে কর্মীদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কর্মক্ষেত্রে সমান অধিকার ও বৈষম্যবিরোধী নীতির প্রশ্ন তুলতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ার ফ্রান্স তাদের কর্মীদের দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য দ্রুত জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের কারণে ফরাসি আইন ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী বিধানের আওতায় বিমান সংস্থাটিকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আদালতের পদক্ষেপ বা আনুষ্ঠানিক আইনি সিদ্ধান্তের তথ্য দেওয়া হয়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২-এর তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা জারি করে।

এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এক ওমানি সহ-পাইলট দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি বিমান ইসরায়েলের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর ইসরায়েলি বিমান সংস্থাগুলোও নিজেদের কর্মীদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একটি ইসরায়েলি বিমান সংস্থা প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত ইতিহাস যাচাই শুরু করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিদ্ধান্তটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এয়ার ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।