আল্টিমেটামের পরও ভবন ছাড়েননি চুয়েট ভিসি, ফটকে তালা; বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-পানি
প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি উপাচার্য ভবন ত্যাগ না করায় প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। বর্তমানে ভবনটি অবরুদ্ধ করে রেখে সেখানে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে সকাল ৮টার পর ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এরপর তাকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে সেখানে তালা দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। আল্টিমেটামের সময়সীমা পার হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।
এদিকে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে কীভাবে এবং কবে নাগাদ এ সংকটের সমাধান হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, ১১ ও ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্যের ঢাকায় থাকার কথা ছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পাহারা কিছুটা শিথিল করেছিলেন। সেই সুযোগেই উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন বলে দাবি তাদের।
দপ্তরে প্রবেশের পর বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিভাগীয় প্রধান ও ডিনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নতুন উপাচার্য। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘কোনো প্রতিকূলতা ছাড়াই খুব ভালোভাবে দপ্তরে প্রবেশ করতে পেরেছি।’
ক্যাম্পাসে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, গত সাত দিন ধরে হলের ২০২৪ ও ২০২৫ ব্যাচের কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং কবে ক্লাস শুরু হবে, তা জানতে চেয়েছেন। এমনকি ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও লিখিতভাবে ক্লাসে ফেরার আগ্রহ জানিয়েছেন। শিক্ষক ও অনেক বিভাগীয় প্রধানও ক্লাস শুরু করতে আগ্রহী। তাই ক্যাম্পাসে এসে সবার সঙ্গে বসে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের বিষয়ে শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘তিনি একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষক। চুয়েটের প্রতি তার অবদান রয়েছে এবং তাকে আমাদের ব্যবহার করতে হবে। তিনি এখন পিএমই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আছেন। তার সঙ্গে আমার চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা একে অপরের শত্রু নই।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিজের জুনিয়র ও ছোট ভাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দাবির কথা শোনা হবে। আলোচনার মাধ্যমে আস্থার সংকট দূর করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চুয়েটকে এগিয়ে নিতে চান তিনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি কুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক।
নতুন উপাচার্যের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকেই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এর আগে উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে একই দিন থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। আন্দোলনের কারণে টানা তিন সপ্তাহ ধরে চুয়েটে বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম। ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রমও।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলনের কারণে এত দিন তাঁকে ক্যাম্পাসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করতে দেখা যায়নি।
নতুন উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশ, শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম এবং পরবর্তী সময়ে ভবনে তালা ও বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় চুয়েটের চলমান অচলাবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
ক্যাম্পাস সব খবর















