রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চবিসাসের মানববন্ধন
চবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগের প্রতিবাদ ও ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)।
৬ অক্টোবর (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে শহীদ মিনার থেকে প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত মিছিল করেন।
মানববন্ধনে চবিসাসের সহ-সভাপতি আজিম সাগর বলেন, গণমাধ্যমরা বাংলাদেশের প্রাণ ভোমরা। শেখ হাসিনার আমলে এটি হতো। ১২ই ফেব্রুয়ারি মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরো এগিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু তার প্রধান বাধা হিসেবে আপনারা ছাত্রদের নেতা কর্মীরা সাংবাদিকদের উপর হামলা করছেন। সাংবাদিকদের মুখ চেপে ধরছেন। আপনাদের জন্য লজ্জা আর একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে।"
সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, “সময় বদলায়, পরিস্থিতি বদলায় এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও তাদের আচরণ বদলায়। আমরা যদি ৫ আগস্টের আগের ক্যাম্পাসের বাস্তবতা দেখি, পুরো বাংলাদেশে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারত না। তাদের কার্যক্রম ক্যাম্পাসে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম ছিল সাংবাদিকরা। আমাদের সহযোগিতায় তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বিভিন্ন কার্যক্রম করতে পারত। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তারা ক্যাম্পাসগুলোতে সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ ভাবা শুরু করেছে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই, আমরা তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ইতিহাস থেকে কখনো শিক্ষা নিই না। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাস প্রতিনিধিরা হামলার শিকার হয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল ইসলাম সরকারি কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি তিতুমীর কলেজ ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু এসব হামলার বিচার হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় বিষয়গুলো উপস্থাপিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা কর্মসূচি বর্জন করতে এক পা-ও পিছপা হব না।”
চবিসাসের অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক মহসিন, "সারাদেশে চিত্র দেখলে বিশটা ঘটনায় ৩৫ জন সাংবাদিকদের হেনস্থার ঘটনা করেছে। রাবি ছাড়াও ঢাবিতে থানার ভিতরে সাংবাদিকদের পিটানোর হয়। তাহলে সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? রাবিতে সাংবাদিকরা কোনভাবেই সম্পৃক্ততা ছিল না। রাজনৈতিক দলদের মধ্যে সংঘর্ষ কাভার করতে গেলে হামলা শিকার হলে সাংবাদিকরা কি করবে তাহলে? আপনারা তাহলে আমাদের কাজের সীমানা ঠিক করে দিন? আমাদেরকে আমাদের কাজ করতে দিন বহির্বিশ্বের পরিচিতি নির্ভর করে এই সাংবাদিকদের উপরই।"
সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ শুভ্র বলেন, ছাত্রদলকে তাদের পূর্বের অবস্থা মনে করিয়ে দিতে চাই। তাদেরকে সাংবাদিক ভাইয়েরা এক্সেস দিয়েছিল জায়গা দিয়েছিল তাদের কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছিল। তারা ক্ষমতায় এসে পরপর যা করছে তা নিন্দনীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হামলা করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকদের পাহাড়ে উঠে মারার হুমকি দিয়েছে বোলিং করেছে। আপনারা একজনকে আহত করলে ১০ জন দাঁড়িয়ে যাবে। মিথ্যা দিয়ে সত্য আড়াল করতে চান কিন্তু সত্য সবসময় প্রকাশিত হবে।
ক্যাম্পাস সব খবর















