Cvoice24.com

ডা. শাহাদাত হোসেন
‘পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নতুন যাত্রার সূচনা হয়েছিল ৭ নভেম্বর’

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৪:৩৯, ৭ নভেম্বর ২০২৬
‘পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নতুন যাত্রার সূচনা হয়েছিল ৭ নভেম্বর’

ভিনদেশি আধিপত্য মোকাবিলা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নতুন যাত্রা শুরুর দিন হিসেবে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব অপরিসীম।’

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকায় শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত বিপ্লব উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চসিকের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা, স্বাধীনতার চেতনা ও জাতীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে এ দিবসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব আমাদের অনুপ্রেরণা। এদিন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিল। সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে এ দেশের মাটি ও মানুষকে মুক্ত করতে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে সিপাহি-জনতা ৭ নভেম্বর তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব এ দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছিল।’

সিটি প্রশাসক আরও বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবী চেতনা কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপকার ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সময় জিয়াউর রহমান জানতেন, এ ঘোষণার কারণে তাকে কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তারপরও নিজের পরিণতির কথা চিন্তা না করে দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পক্ষে সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বেই দেশ পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে যায় এবং জনগণের ক্ষমতায়নের সূচনা ঘটে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চেতনা ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

ডা. শাহাদাত বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের শপথ হোক, শহীদ জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা ও আদর্শকে ধারণ করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন।

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর