Cvoice24.com

দ্বিতীয় দিনেই বাড়ল পর্যটকের চাপ, সেন্টমার্টিন গেল তিন জাহাজ

উখিয়া-টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
১২:০৩, ৬ নভেম্বর ২০২৬
দ্বিতীয় দিনেই বাড়ল পর্যটকের চাপ, সেন্টমার্টিন গেল তিন জাহাজ

চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দ্বিতীয় দিনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি জাহাজ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে তিনটি জাহাজে করে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল এমভি বারো আউলিয়া।

শুক্রবার সকালে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। জাহাজ পরিচালনাকারী সূত্রে জানা গেছে, এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক রয়েছেন। তাঁদের দুপুরের মধ্যে দ্বীপে পৌঁছানোর কথা।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুমোদিত তিনটি জাহাজ নিয়মিত চলাচল করবে। এসব জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। এ বছর প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি থাকায় প্রয়োজনে জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন ভ্রমণ চালুর কথা ছিল। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, নৌযানের ছাড়পত্র ও পরিবেশগত শর্ত পূরণ নিয়ে জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার নুনিয়ারছড়া ঘাটে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক আল মাহমুদ বলেন, ‘সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের সম্পদ। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সেখানে ঘুরতে যাওয়া প্রত্যেকেরই ভূমিকা রাখা উচিত।’

তবে টিকিটের দাম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ঢাকার উত্তরার পর্যটক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ভ্রমণপিপাসু মানুষের সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে টিকিটের দাম নির্ধারণ করা উচিত।

এবার সেন্টমার্টিন ভ্রমণে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সামুদ্রিক প্রাণী, প্রবাল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না।

পরিবেশবিদদের মতে, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আরোপিত বিধিনিষেধের যথাযথ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।