Cvoice24.com

‘৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের শিক্ষা নিতে হবে’

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৭:১৩, ৭ নভেম্বর ২০২৬
‘৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের শিক্ষা নিতে হবে’

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানুষের মৌলিক অধিকার এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শিক্ষা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে মহানগরের কাজীর দেউড়ির জিয়া স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) চট্টগ্রাম শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্রীয় সংকট, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার দীর্ঘ ইতিহাস জড়িত।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। পরদিন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে চসিক প্রশাসক বলেন, ওই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও পাল্টাপাল্টি অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ২ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাবলি দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নতুন মোড় নেয়।

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার সময় বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। কৃষি, তৈরি পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের বিকাশেও তাঁর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রভাব রয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০০৭-০৮ সালের রাজনৈতিক সংকট পর্যন্ত গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষায় তিনি আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন।

বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও কর্মদক্ষতার বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়ানুবর্তিতা ও কর্মনিষ্ঠার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে কার্যকরভাবে পরিবর্তন করতে হলে সর্বস্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, নারী, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনার অন্যতম শিক্ষা হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, পরমতসহিষ্ণুতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী ও কৃষকের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

ড্যাবের নেতাদের উদ্দেশে চসিক প্রশাসক বলেন, চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে সামাজিক ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত হতে হবে। এ ধরনের আলোচনা সভা নিয়মিত আয়োজনের পাশাপাশি ইতিহাস, স্বাস্থ্য, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা ও গঠনমূলক আলোচনার জন্য একটি গবেষণা সেল গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ডা. রাসেল ফরিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ডা. কাজী শামীম আল মামুনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন চমেক ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, মহানগর ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আব্বাস উদ্দিন, চট্টগ্রাম সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্যসচিব ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, চমেক ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়েজুর রহমান, জেলা ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, মহানগর ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এম ইফতেখারুল ইসলাম, ড্যাবের উপদেষ্টা ডা. আবদুল মোত্তালিব, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. আনিসুল হোসেন, মহানগর ড্যাবের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ডা. এস এম সারোয়ার আলম, সহসভাপতি ডা. নুরুল করিম চৌধুরী এবং ড্যাব চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ডা. ইমরোজ উদ্দিন প্রমুখ।

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর