Cvoice24.com

চন্দনাইশে মাদ্রাসাছাত্রকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত, তদন্ত কমিটি

চন্দনাইশ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১১:৩২, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চন্দনাইশে মাদ্রাসাছাত্রকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত, তদন্ত কমিটি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার জামিরজুরী রজবিয়া আজিজিয়া রহমানিয়া সুন্নিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফাজিল প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) অভিযোগকারী শিক্ষার্থী কাজী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম মিজান (রোল–০৮) চন্দনাইশের ইউএনও মো. আবদুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগপত্রে মিজান উল্লেখ করেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসায় অ্যাসেম্বলি চলাকালে তিনি যথাসময়ে উপস্থিত হন। এ সময় কোনো কারণ জিজ্ঞাসা না করেই অধ্যক্ষ মাদ্রাসার মাঠে অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে তাকে বেত দিয়ে আঘাত করেন। তিনি নিজেকে ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিলেও অধ্যক্ষ এতে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মিজানের দাবি, ওই ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন। এ কারণে তিনি নিয়মিত ক্লাসেও যেতে পারছেন না।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এর আগেও তার চাচাতো ভাইসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে মিজান বলেন, কারও প্রতি অসম্মান দেখানোর জন্য নয়, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্যই তিনি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির কাছেও দেওয়া হয়েছে।

মিজানের বাবা কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন বেত্রাঘাতের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শাসন করা হয়েছে।

চন্দনাইশের ইউএনও মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’