নাফ নদীর পোল্ডার প্রকল্পটি ‘গলার কাঁটা’, তবু শেষ করতে হবে : পানিসম্পদ মন্ত্রী
উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে নাফ নদীসংলগ্ন পোল্ডার পুনর্বাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নয়ন প্রকল্প একাধিকবার সংশোধন ও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পরও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, কারিগরি সমীক্ষা ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্পটি নতুনভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সুবিধাভোগী ও জনগণের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাস্তবায়নাধীন ‘কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর পোল্ডারসমূহের (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮) পুনর্বাসন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’-এর আওতায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি, কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী রহুল আমিন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সুবিধাভোগীরা নাফ নদীর ভাঙন, বেড়িবাঁধের দুর্বল অংশ, বর্ষায় নদীর পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা এবং কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তারা পোল্ডার পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে বাঁধের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানান।
স্থানীয়রা বলেন, নাফ নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা নদী ও কৃষির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিবছর তাদের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়। টেকসইভাবে বাঁধ পুনর্বাসন করা গেলে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি কৃষিজমি, বসতভিটা ও স্থানীয় অবকাঠামো রক্ষা করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সীমান্ত সড়ক ও পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্পে ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে প্রকল্প সংশোধন ও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পরও এটি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজে আসেনি। একটি প্রকল্প বারবার সংশোধন ও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জনস্বার্থে আমাদের নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। প্রকল্পটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বসে থাকলে চলবে না, এটিও শেষ করতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থকে সামনে রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী খননসহ জনগণের প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের কাজ নতুনভাবে শুরু করা হবে। তবে এর আগে কারিগরি সমীক্ষা ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করতে হবে। এ কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, কৃষি, মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ— সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটির কাজ করতে হবে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়েই প্রকল্পটি পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নাফ নদীতীরবর্তী পোল্ডারগুলোর পুনর্বাসনের মাধ্যমে নদীভাঙন ও পানির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনপদ রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে প্রকল্পটির।
মতবিনিময় সভা শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বেড়িবাঁধের বর্তমান অবস্থা, ভাঙন ও স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ছিদ্দিক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন এবং উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজার সব খবর














