Cvoice24.com

দুই যুগেও সংস্কার হয়নি, কাদায় বিলীন পেকুয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

এস এম জুবাইদ, পেকুয়া (কক্সবাজার)
১৩:২৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুই যুগেও সংস্কার হয়নি, কাদায় বিলীন পেকুয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কাটাফাঁড়ি-কাজিরমার্কেট সড়ক। একসময় দক্ষিণ মগনামার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘ দুই যুগ ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সড়কটির অনেক অংশের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভেঙে যাওয়া ইট, অসংখ্য খানাখন্দ ও কাদামাটিতে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পুরোনো ইট উঠে গেছে বহু বছর আগে। কোথাও রাস্তার কোনো অস্তিত্ব নেই, আবার কোথাও দুপাশ ভেঙে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। অসংখ্য গর্তের সঙ্গে কাদামাটি ও ভাঙা ইট মিশে থাকায় বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ফলে যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই যুগ আগে কাজিরমার্কেট-কাটাফাঁড়ি সড়কটি ইট দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটির আর কোনো স্থায়ী সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। বছরের পর বছর অবহেলায় সড়কের ইট উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও ইট ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

বর্ষাকালে এসব ভাঙা ইট ও মাটির সঙ্গে পানি মিশে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়। এতে পথচারীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আশ্বাসের পর আশ্বাসে পেরিয়ে গেছে দুই যুগ। এর মধ্যে ধীরে ধীরে সড়কের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে এখন অনেক জায়গায় রাস্তার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া কঠিন।

দক্ষিণ মগনামার কালারপাড়া, বেদেরবিল পাড়া, কোদাইল্যাদিয়া, কুমপাড়া, বগারপাড়া, রঙিখালের পূর্বকূলসহ অন্তত ১০টি পাড়ার হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।

শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজসহ নানা প্রয়োজনে এসব এলাকার মানুষকে পেকুয়া উপজেলা সদরে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থায় প্রতিদিনই তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন ভাঙা রাস্তা, কাদা ও খানাখন্দ পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে তাদের। বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

সড়কটির বেহাল দশায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষক ও লবণচাষিরাও। বিশেষ করে লবণ মৌসুমে মাঠ থেকে লবণ পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চাষিদের।

লবণচাষি হাকিম আলী বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আগে লবণ পরিবহনের গাড়ি চলাচল করত। এখন রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে গাড়ি আসতে চায় না। ফলে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে লবণ পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।’

স্থানীয়রা জানান, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় দক্ষিণ মগনামার মানুষকে পেকুয়া উপজেলা সদরে যেতে বিকল্প পথে প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার বেশি ঘুরতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি বেড়ে যায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচ।

স্থানীয় বাসিন্দা শফি ও আলমগীর বলেন, এই রাস্তার দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। বছরের পর বছর ধরে রাস্তা সংস্কারের কথা শুনছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। একসময় এই সড়ক দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করত। এখন অনেক জায়গায় রাস্তার অস্তিত্বই নেই। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম বলেন, ‘কাজিরমার্কেট-কাটাফাঁড়ি সড়কটি দক্ষিণ মগনামার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। এর কারণে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও লবণচাষিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, একসময় দক্ষিণ মগনামার মানুষের জন্য এই সড়কটি ছিল যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়ন হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আগের চেয়ারম্যানের আমলে সড়কের ওপর যে ইটগুলো ছিল, সেগুলোও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু এই সড়কের ইট নয়, মগনামার অন্তত ২২টি সড়কের ইট তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

ইউনুস চৌধুরী আরও বলেন, মগনামায় যেসব সড়ক অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোর তালিকা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও অবগত করা হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই মগনামার অবহেলিত সড়কগুলো ক্রমান্বয়ে উন্নয়ন করা হবে।