Cvoice24.com

জন্মভূমিতে চিরনিদ্রায় অপ্রতিম, বিচার দাবিতে মহাসড়কে কুবি শিক্ষার্থীরা

সিভয়েস২৪ ডেস্ক
১৩:১০, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জন্মভূমিতে চিরনিদ্রায় অপ্রতিম, বিচার দাবিতে মহাসড়কে কুবি শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা।

এর আগে, সকালে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে। জানাজা শেষে শত শত শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বিভিন্ন লেখা-সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা মহাসড়কে অবস্থান করছেন এবং নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে দুই পাশে যানজট বাড়ছে। তারা অবরোধ তুলে নিলে যানজট কমে যাবে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে রবিবার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে বাসার পাশে গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দুই জানাজায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে শোকের আবহ তৈরি হয়।

দ্বিতীয় জানাজা শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি উপশহরের গন্ধমতি এলাকায় নিজেদের বাড়ির পাশের কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, অপ্রতিমের দাদার বাড়ি কুষ্টিয়ায় এবং নানার বাড়ি চাঁদপুরে। তবে কুমিল্লার কোটবাড়ি-গন্ধমতি এলাকায় তাদের নিজেদের বাড়িতেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে জন্ম ও বেড়ে ওঠার স্থান গন্ধমতির বাড়ির পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। অপ্রতিমকে সেখানেই দাফন করার বিষয়টি আগেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।

শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি।

পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে তার মাথায় গুরুতর আঘাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

শনিবার রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ ও আটক ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।