নৌ ও বিমান যোগাযোগ বাড়িয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তসীমান্ত বাণিজ্য এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও সিথওয়ে বন্দরের নৌ যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মো।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে চাল, আদা, রাবার ও মাছসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি এবং বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, রাসায়নিক ও তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারে রাশিয়ার সহযোগিতায় একটি এলএনজি হাব গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে এলএনজিসহ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে চীন-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর নিয়ে যে আলোচনা করেছে তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।
দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে সরকার ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, মিয়ানমার প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে উপকূলীয় নৌ যোগাযোগ, সড়ক যোগাযোগ ও সরাসরি বিমান চলাচল চালু হলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়বে।
আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো সম্ভব। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমান বন্দরও পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের অন্যতম এয়ার এভিয়েশন হাব হতে পারে। তাছাড়া সরকারও চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে নিয়ে আলাদা মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনসহ অন্যান্য অঞ্চলের ফ্লাইট কানেক্টিভিটি জোরদার হবে।
চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সক্ষমতা ও তুলনামূলক সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। মিয়ানমারের কৃষি ও মৎস্য খাতে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে উভয় দেশ লাভবান হতে পারে।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারা দুই দেশের মধ্যে ভিসা জটিলতা দূর করা, নৌ-প্রটোকল স্বাক্ষর এবং অর্থ লেনদেনের জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর














