Cvoice24.com

সীতাকুণ্ডে জমি বিরোধে হামলা-ভাঙচুর, আহত ২ নারী

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৪:০১, ৮ নভেম্বর ২০২৬
সীতাকুণ্ডে জমি বিরোধে হামলা-ভাঙচুর, আহত ২ নারী

নিজের বাড়িতেই বসবাস করছেন, কিন্তু থাকার মতো পরিবেশ নেই। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘর ভাঙচুরের পর ছয় দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে একটি পরিবার। ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে, নষ্ট করা হয়েছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার নুনাছড়া এলাকার চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে বসতঘর ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন খোরশিদা আক্তার নামে এক নারী। এ ঘটনায় রেজাউল করিম মানিক, নুর করিম, সুজনসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

খোরশিদা আক্তারের অভিযোগ, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। তাদের পৈতৃক ভিটের জমি নিয়ে প্রতিবেশী রেজাউল করিম মানিকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। এ নিয়ে তার ভাই মো. ইউসুফ দুই থেকে তিন মাস আগে আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

লিখিত অভিযোগে খোরশিদা উল্লেখ করেন, গত ৩ নভেম্বর সকালে পরিবারের সদস্যরা পুরোনো বসতঘর ভেঙে নতুন করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ১৫ থেকে ২০ জনকে নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় তার মা হাসিনা আক্তার ও ভাবি রুনা আক্তার আহত হন। পরে তাদের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

খোরশিদার দাবি, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ প্রথমে ভাঙচুরে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে গেলেও কিছুদূর যাওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তারা আবার ফিরে এসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের দুটি গরু নিয়ে গেছেন, যার আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা। ঘরের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ও দুটি স্মার্টফোন ভাঙচুর করা হয়েছে। তার ও ভাবির জমানো ৭০ হাজার টাকাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া তাকে ও তার ভাবিকে শ্লীলতাহানি এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করার অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর থেকে তাদের বাড়িতে থাকতে না দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন খোরশিদা।

খোরশিদার ভাই ইউসুফ বলেন, ‘এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। রেজাউল করিম পোড়া সনের একটি জাল দলিল তৈরি করে কয়েক বছর আগে জায়গাটি জবরদখল করে নেন। একপর্যায়ে তিনি মামলা-মোকদ্দমা না করে ১০ লাখ টাকা নিয়ে জায়গাটি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। সেই অনুযায়ী আমরা অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করি। পরে তিনি জায়গা দিতে অস্বীকার করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত রেজাউল করিম মানিক বলেন, ‘জায়গাটি আমি দীর্ঘদিন আগে কিনেছি। চারপাশে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ভোগদখলে থাকা অবস্থায় কয়েক দিন আগে হঠাৎ করে তাঁরা সেখানে একটি ঘর তুলে ফেলেন।’ ঘর ভাঙচুরের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে যা করা হয়েছে, তা তাদের এক শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শ অনুযায়ী করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে আলাদা করে দু’দিকে পাঠিয়ে দেয়। উভয় পক্ষকে জমির মালিকানা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর