মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, ভাইরাল ভিডিওতেই ফাঁসলেন অপহরণকারী
উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
মুক্তিপণের আশায় ছয় বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে হাত বেঁধে ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ভিডিও ধারণ করে অপহরণকারী। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত। শেষ পর্যন্ত ভাইরাল ভিডিওতেই মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র— রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অপহরণের সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তকে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্প-১৮-এর কে-৯ ব্লকের একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি হলেন জাকারিয়া (৩০)। তিনি একই ক্যাম্পের কে-০১ ব্লকের বাসিন্দা।
এপিবিএন সূত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওটিতে এক শিশুর হাত বাঁধা অবস্থায় তার সামনে ছুরি ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শনের দৃশ্য দেখা যায়। আতঙ্কিত শিশুটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রাণভিক্ষা চাইছিল। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বালুখালী ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্প বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা শিশুটি রহমত আলী (৬)। সে উখিয়া ক্যাম্প-১১-এর ই-৪ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ জুনাইদের ছেলে। তাকে গত ২২ জুলাই অপহরণ করা হয়। পরে ২৬ জুলাই অপহরণকারীদের দাবিকৃত ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ পরিশোধের পর শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অপহরণকারীদের প্রাণনাশের হুমকির কারণে পরিবারটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হতে সাহস পায়নি। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উখিয়া থানা পুলিশের তথ্য ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানে জাকারিয়ার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়।
৮-এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি শিশুকে হাত বেঁধে তার সামনে ছুরি ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। গোপন তথ্য, স্থানীয় হেড-মাঝি ও সাব-মাঝিদের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপহরণে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে এপিবিএনের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার সব খবর















