টেকনাফে আরও এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার, উদ্বেগ
উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদীর তীরে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এই নিয়ে ১২ দিনের ব্যবধানে টেকনাফের বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী জনপদে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে। স্থানীয়দের শঙ্কা, মানবপাচার, ট্রলারডুবি কিংবা সীমান্তসংলগ্ন দুর্ঘটনায় এসব মৃত্যু হতে পারে।
জানা গেছে, স্থানীয় জেলেরা নদীর তীরে মরদেহটি ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে টেকনাফ নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, স্থানীয়দের খবরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। তবে এখনো মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ধারাবাহিকভাবে সীমান্ত এলাকায় অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সনজীব জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহটির চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নিহত যুবকের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর। তার পরনে ছিল গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ রঙের জার্সি। মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, সম্প্রতি সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী দুটি ট্রলার মিয়ানমারের উপকূলে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি একজন হতে পারেন। তবে পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত এবং উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে সমুদ্র ও নাফ নদীর বিভিন্ন এলাকায় মরদেহ ভেসে আসার ঘটনা বাড়তে পারে। পাশাপাশি মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা এবং সাম্প্রতিক ট্রলারডুবির ঘটনাও উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
টেকনাফ নৌপুলিশের উপপরিদর্শক সুমন চন্দ্র নাথ বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি নাকি রোহিঙ্গা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে তিন অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ১০ জুলাই শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন সৈকত থেকে উদ্ধার করা হয় একটি মানবকঙ্কাল। সর্বশেষ এই যুবকের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে টেকনাফের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ। একের পর এক এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
কক্সবাজার সব খবর















