Cvoice24.com

টেকনাফে মহিষ আনতে গিয়ে কিশোর নিখোঁজ, ২০ লাখ মুক্তিপণ দাবি 

উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৯:০২, ১৮ জুলাই ২০২৬
টেকনাফে মহিষ আনতে গিয়ে কিশোর নিখোঁজ, ২০ লাখ মুক্তিপণ দাবি 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় মহিষ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর মো. আরফাত (১৩) নামে এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা তার মুক্তির বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। খবর পেয়ে কিশোরকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে শামলাপুর এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে চরতে থাকা মহিষ আনতে বাড়ি থেকে বের হয় আরফাত। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।

অপহৃত আরফাত শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাবুদের ছেলে।

আরফাতের বাবা আব্দুল মাবুদ জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে অপহরণকারীদের কাছে রয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত চাইলে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে, অন্যথায় তাকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ। এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই আবেদন, আমার ছেলেকে যেন দ্রুত জীবিত উদ্ধার করা হয়।’

ঘটনার পর থেকে পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আরফাতের মা ও স্বজনরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত কিশোরকে নিরাপদে উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, ‘স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিউল কাদের কালু বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অপহৃত কিশোরকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অপহরণকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে।’

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, টেকনাফের সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপহরণকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। পাহাড়ে গবাদিপশু চরাতে যাওয়া মানুষ, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহকারী এবং সাধারণ পথচারীদের লক্ষ্য করে প্রায়ই অপহরণের ঘটনা ঘটছে। ফলে সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫০ জনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

কক্সবাজার সব খবর