রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাংলাদেশি যুবককে গুলি
উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় ওবাইদুল হক লালু (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২ ব্লকে মসজিদে সুন্নাহর সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ওবাইদুল পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চোরখোলা এলাকার আবুল হোছেন প্রকাশ ভুলুর ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে ওবাইদুলের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে ওবাইদুলের ডান পায়ের গোড়ালি জখম হয়। তাকে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গুলিবর্ষণের পর অস্ত্রধারীরা ক্যাম্পের কাঁটাতারের অংশ অতিক্রম করে বাংলাদেশি বসতিপূর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়েন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ওবাইদুলের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার ভাই মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলিতে তার পায়ে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘জুমার নামাজের পর হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পাই। পরে জানতে পারি, একজন বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, ‘জুমার নামাজের পর রোহিঙ্গা আরএসও সদস্যরা অস্ত্রসহ এসে গুলি করতে করতে কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশিদের বাড়ির উঠানে চলে আসে। উখিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’
তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পে এ ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা নুর আয়েশা বলেন, ‘গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে জানতে পারি, আমার প্রতিবেশী লালুকে গুলি করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাশের ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা রাতে আবারও হামলার হুমকি দিচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাই।’
উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরমান আজাদ বলেন, ওবাইদুলকে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশি কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানান।
কক্সবাজার সব খবর















