Cvoice24.com

ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনী: বলিউডের সেই অমর প্রেমকাহিনি 

বিনোদন ডেস্ক
১৪:০৩, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনী: বলিউডের সেই অমর প্রেমকাহিনি 

বহু বছর কেটে গেলেও ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর প্রেম কাহিনি এখনও বলিউড ভক্তদের মনে অমলিন হয়ে আছে। তাদের দেখা, কাজ, প্রেম ও বিয়ে—সব মিলিয়ে যেন এক পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার গল্প। সম্প্রতি ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে এই কিংবদন্তি জুটি।

হেমা মালিনী তার আত্মজীবনী ‘হেমা মালিনী: বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্ল’-এ প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চে যাওয়ার সময় শুনেছিলেন শশী কাপুরকে পাঞ্জাবিতে ধর্মেন্দ্র বলছেন—‘মেয়েটা খুব সুন্দর।’ এরপর তাকে পরিচয় করানো হয় রাজ কাপুরের ‘ড্রিম গার্ল’ হিসেবে। দুই সুপারস্টারের সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে হেমা সামলাতে পারেননি অস্বস্তি আর নার্ভাসনেস।

‘তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান’ থেকে প্রেমের সূচনা

১৯৭০ সালে ছবির সেটে পুনরায় দেখা হয় হেমা ও ধর্মেন্দ্রের। তখন ধর্মেন্দ্র ছিলেন সানি ও ববি দেওলের বাবা। হেমাকে দেখেই তার মনে জন্ম নেয় নতুন অনুভূতি। হেমা পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
‘ধর্মেন্দ্রকে দেখেই বুঝেছিলাম, এমন একজন মানুষই আমার জীবনের সঙ্গী হওয়া উচিত।’

দুজন একসাথে কাজ করেছেন ৪২টি ছবিতে—শোলে, সীতা অউর গীতা, নসীব, আন্ধা কানুনসহ বহু চলচ্চিত্রে তাঁদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। কাজের ফাঁকেই তাঁরা কাছাকাছি আসতে থাকেন।

প্রেম, বাধা ও ধর্মান্তর

ধর্মেন্দ্র ১৯৫৭ সালে প্রকাশ কৌরের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। হেমার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হলেও এক সময়ে ধর্মেন্দ্রের অভিনেত্রী অনীতা রাজের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে শোরগোল হয়, যা হেমার কষ্টের কারণ হয়। পরে ধর্মেন্দ্র অনীতা রাজের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখেন।

পাঁচ বছর প্রেমের পরও বিয়েতে বাধা তৈরি হয়—হেমার পরিবার দ্বিধাগ্রস্ত ছিল, আর ধর্মেন্দ্রের প্রথম স্ত্রী প্রকাশ বিচ্ছেদে রাজি ছিলেন না। আইনি জটিলতার কারণে হিন্দু আইনে বিয়ে করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে ধর্মেন্দ্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, নতুন নাম নেন দিলাওয়ার খান, এবং হেমাও রূপান্তরিত হন আইশা নামে। গোপনে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে। পরে দক্ষিণ ভারতীয় রীতি মেনে আরেকটি অনুষ্ঠানও হয়।

পরিবার ও সন্তান

১৯৮১ সালে জন্ম নেন তাদের প্রথম মেয়ে এশা দেওল, ১৯৮৫ সালে আসে দ্বিতীয় কন্যা আহানা। প্রকাশ কৌর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘শুধু আমার স্বামী নয়, যে কোনো পুরুষই হেমাকে পছন্দ করতেন। তিনি নিখুঁত নন, কিন্তু একজন অসাধারণ বাবা।’

প্রকাশ কৌর হেমার প্রতি কোনো অভিযোগ রাখেননি, বরং তিনি বলেছেন, “যদি আমি হেমার জায়গায় থাকতাম, আমি হয়তো একইভাবে কাজ করতে পারতাম না। একজন স্ত্রী ও মা হিসেবে হেমার সিদ্ধান্ত আমি সম্মান করি।”