প্রশিক্ষণ শেষে সৌদি যাওয়া হলো না আব্দুল মালেকের
কক্সবাজার প্রতিনিধি
অল্প কদিন পরেই সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল। সে লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন কক্সবাজারের রামুর জোয়ারিয়ানালায় বিকেএসপির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ছিল সেই প্রশিক্ষণের শেষ দিন। কিন্তু দিনটি হয়ে গেল তার জীবনেরও শেষ দিন।
টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিনের তরুণ পর্যটন ব্যবসায়ী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল মালেক (৩৪) আর ফিরলেন না ঘরে।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে রামু থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কক্সবাজার শহরে ফেরার পথে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের ঝিলংজা বাংলাবাজার এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান মালেক।
একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন; তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সেন্টমার্টিনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা, প্রয়াত আলী হোসেনের ছেলে আব্দুল মালেক ছিলেন এক কন্যাসন্তানের জনক। স্থানীয় ‘সি প্রবাল রিসোর্ট’-এর মালিক হিসেবে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জানা গেছে, শুধু ব্যবসায়ী নন, মালেন ছিলেন শিক্ষিত ও স্বপ্নবাজ এক তরুণ। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) শেষে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী হাতেগোনা কয়েকজনের একজন ছিলেন তিনি।
তার ফেসবুক বায়োর শেষ লাইনটি এখন যেন বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধছে—‘মৃত্যুর পর আমার লাশটি জন্মভূমি সেন্টমার্টিনে বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত করিও।’
বাবা-মা আগেই মারা গেছেন। আজ সেই ছেলেও চলে গেলেন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে তার নিথর দেহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তার মৃত্যুর খবর, শোকস্তব্ধ সেন্টমার্টিনের মানুষ।
সদর থানা, কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছমিউদ্দিন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সেন্টমার্টিনের মানুষ বলছেন, মালেক ছিলেন পরিশ্রমী ও স্বপ্নবান। পর্যটন ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বীপের সৌন্দর্য তুলে ধরতেন তিনি। সামনে ছিল নতুন পথচলা, বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি। কিন্তু সব পরিকল্পনা থেমে গেল এক মুহূর্তে।
কক্সবাজার সব খবর















