Cvoice24.com

ভাঙা রাস্তা-আবর্জনায় দুর্বিষহ উত্তর হালিশহর

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৮:১১, ৩০ জুন ২০২৬
ভাঙা রাস্তা-আবর্জনায় দুর্বিষহ উত্তর হালিশহর

নগরজুড়ে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প চললেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডের বাস্তব চিত্র যেন ভিন্ন এক গল্প। কোথাও ভাঙাচোরা সড়ক, কোথাও মাসের পর মাস খোঁড়াখুঁড়ি, আবার কোথাও জমে থাকা ময়লার স্তূপের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজের ধীরগতি ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

প্রতিবেদনটি ইউটিউবে দেখুন

সরেজমিনে এলাকার বিভিন্ন সড়কে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও রাস্তা খালের মতো পানিতে ডুবে আছে, কোথাও আবার সড়ক এতটাই ভেঙে গেছে যে দেখে মনে হয় খালের ওপর দিয়েই হাঁটতে হবে। অনেক সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তা অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী, যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীদের।

শায়ন্ত নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এই রাস্তাটার কাজ শুরু হয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মাস আগে। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। দেড়-দুই মাস ধরে কোনো কাজই হচ্ছে না। এখানে স্কুল আছে, বড় বাজার আছে। অথচ একটি ডাস্টবিনও নেই। মানুষ চলাফেরা করতে পারছে না, আমাদের ব্যবসাও প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।’

খলিল নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘খাল খননের সময় মাটি তোলার কারণে সড়কের পাশের গাইডওয়াল ভেঙে পড়ে। এরপর দীর্ঘ ছয় মাস কাজ বন্ধ ছিল। পরে কিছুটা কাজ হলেও আবার তা বন্ধ হয়ে পড়ে। এখনো পুরো সড়ক চলাচলের উপযোগী হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এখানে স্কুল-কলেজ রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে। শিক্ষার্থী, যাত্রী ও চালকদের চরম কষ্টে চলাচল করতে হয়।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, মনাপাড়া, নাপাড়া, ফুলচিপাড়া, মোল্লাপাড়া, চৌধুরীপাড়া এবং ব্লক এলাকার বিভিন্ন সড়কে একই চিত্র। কোথাও পুরোনো রাস্তা কেটে ফেলে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছে। ফলে দুর্ভোগ যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

সড়কের দুরবস্থার পাশাপাশি উত্তর হালিশহরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট। ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই, আবার কোথাও ডাস্টবিন সরিয়ে নেওয়ার পর খালের পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে। বাতাসে সেই ময়লা উড়ে আবার সড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

আরও দেখুন— ভাঙা রাস্তা-আবর্জনায় দুর্বিষহ উত্তর হালিশহর

ইলিয়াস নামে একজন বলেন, ‘আগে এখানে দুটি ডাস্টবিন ছিল। এখন সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে মানুষ খালের পাশে ময়লা ফেলছে। পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। দুর্গন্ধে শিশুদের স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’

গলিচিপে পাড়া এলাকার এক স্থানীয় দোকানি বলেন, ‘সাজান বেকারির মোড় ও আব্দুল শাহ ফকির মাজার গেট এলাকার রাস্তায় প্রায়ই ময়লা জমে থাকে। এতে চলাচল যেমন কষ্টকর হয়, তেমনি দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার কার্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়কের পাশে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। সম্প্রতি খাল খনন করা হলেও সেটি আবার মাটি ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ট্রান্সফার পয়েন্টের কারণে পুরো এলাকার আবর্জনা এনে রাস্তার পাশে রাখা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত ডাস্টবিন কিংবা নিয়মিত পরিষ্কারের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।

ফারুক নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা নিয়মিত কর দিই। তাহলে এত বড় একটি বাজারে কেন পর্যাপ্ত ডাস্টবিন থাকবে না? ময়লা নিতে আসা কর্মীরাও বলেন, ছোট গাড়িতে সব ময়লা নেওয়া সম্ভব না। সিটি কর্পোরেশন গাড়ি বড়ও করতে পারবে না, একটি জায়গায় দুটি গাড়িও দিতে পারবে না। তার মানে এর কোনো সমাধান নেই!’

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর