পেকুয়ায় বোটে ওঠার সময় পানিতে পড়ে যুবক নিখোঁজ
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা-কুতুবদিয়া চ্যানেলের মগনামা জেটিঘাটে বোটে ওঠার সময় পানিতে পড়ে শামীম আলম (প্রায়) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ শামীম আলম ভোলা জেলার বাসিন্দা মোসলে উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরে স্ত্রী করিমা আক্তারকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং একটি শিপিং কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী করিমা আক্তার পোশাকশিল্পে কর্মরত।
স্বজনেরা জানান, প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় এক বছর আগে শামীম ও করিমার বিয়ে হয়। করিমা অসুস্থ হওয়ায় তাকে বাবার বাড়ি কুতুবদিয়ায় রেখে আসতে শনিবার সকালে দুজন চট্টগ্রাম থেকে রওনা হন। করিমার বাবার বাড়ি কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মংলার পাড়ায়।
মগনামা জেটিঘাটে পৌঁছে তারা কুতুবদিয়া যাওয়ার বোটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। একপর্যায়ে বোট ঘাটে এলে দুজন সিঁড়ি দিয়ে বোটে ওঠার সময় হঠাৎ শামীম পা পিছলে পানিতে পড়ে যান।
শামীমকে উদ্ধারে সঙ্গে সঙ্গে নদীতে ঝাঁপ দেন বোটের মাঝি আমির হামজা। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে খবর পেয়ে পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে তাদের সঙ্গে ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে শামীমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শামীমের স্ত্রী করিমা আক্তারের বড় বোন রহিমা বেগম বলেন, ‘করিমা অসুস্থ। তাকে বাবার বাড়িতে রেখে শামীমের চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। ঘাটের সিঁড়িতে দুজন বোটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বোটে ওঠার সময় হঠাৎ শামীম পানিতে পড়ে যান। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
মগনামা জেটিঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরের দিকে ঘাটের সিঁড়ি থেকে একজন পানিতে পড়ে যান। তখন সাগরে ভরা জোয়ার ছিল। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলেও ডুবুরি না থাকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে পারেননি।’
পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শফিউল আলম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে ডুবুরি না থাকায় পানিতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পানিতে নিখোঁজ ব্যক্তি ভেসে না ওঠা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো কঠিন বলে জানান তিনি।’
এদিকে শামীম নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। দ্রুত ডুবুরি দল এনে উদ্ধার অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কক্সবাজার সব খবর















