Cvoice24.com

ছোট ভূকম্পন বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:০২, ২৮ নভেম্বর ২০২১
ছোট ভূকম্পন বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত

প্রতিকী ছবি

বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার অঞ্চলে পর পর তিনদিন একই উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি জায়গা থেকে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছে। সেই কম্পনে কেঁপে উঠছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান। টানা তৃতীয় দিনের মতো ২৮ নভেম্বর মধ্যরাতেও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কিন্তু একই কেন্দ্র থেকে উৎপত্তি হলেও তৃতীয় দিনের এ মৃদু কম্পন বাংলাদেশে অনুভূত হয়নি। গত ক'দিনের ঘন ঘন ভূমিকম্প মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় আকারের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। সঠিক সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে। 

এদিকে ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকাভারি অনুযায়ী, রোববার (২৮ নভেম্বর) আঘাত হানা ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেল অনুযায়ী ৩ দশমিক ৬ মাত্রার। যা মধ্যরাত ৩টা ৫০ মিনিটে অনুভূত হয়। এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল আগের দুইদিনের মত ভারত মিয়ানমার বর্ডারে। যার অবস্থান মিয়ানমারের হাখা থেকে ২৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের ৪৬ কিলোমিটার গভীরে। ৩ দশমিক ৭৯ কোটি টন টিএনটি বিস্ফোরিত হলে যে শক্তি নির্গত হয়, ৩ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পে সে মাত্রার কম্পন হয়েছে। এর আগে গত ২৬ ও ২৭ নভেম্বর এ দুইদিনের রিখটার স্কেল ৬ দশমিক ১ এবং ৪ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প চট্টগ্রামে অনুভূত হয়।

একই জায়গা থেকে কেন বারবার ভূমিকম্প হয়

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, সাধারণভাবে ছোট ছোট ভূমিকম্প ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বহন করে। আর একই জায়গা থেকে বারবার ভূমিকম্প হওয়া দুশ্চিন্তার বিষয়। বাংলাদেশ তিনটা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে। এই বিশাল আকারের টেকটোনিক প্লেটগুলোর যখ একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা লাগে তখনই মাটির তলদেশ কেঁপে ওঠে ভূপৃষ্ঠের ওপর কম্পন অনুভুত হয়। এই প্লেটগুলোর নাড়াচাড়ার ফলে দেশে মাঝেমাঝেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আর ভারতীয় এবং ইউরেশীয় প্লেট দুটো হিমালয়ের পাদদেশে আটকা পড়ে রয়েছে। ১৯৩৪ সালের পর বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই দুটো প্লেট হয়তো অদূর ভবিষ্যতে নড়ে উঠবে। যদি বাংলাদেশ অংশের উৎস থেকে ভূমিকম্প রিখটার স্কেল ৮ মাত্রা বা তারও বেশি হয় তবে পুরো দেশ পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হবার আশঙ্কা রয়েছে। 

সাধারণত ভূমিকম্পকে ১ থেকে ১২ মাত্রা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। ৩ থেকে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূতি হলে ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয়না। তবে রিখটার স্কেল ৫ থেকে ৬ মাত্রায় পৌঁছে গেলে সেটাকে মোটামুটি মানের উচ্চ মাত্রায় হিসেব করা হয়ে থাকে। কিন্তু রিখটার স্কেলের এক মাত্রা পার্থক্যের অর্থ হচ্ছে আগেরটির চেয়ে পরেরটি ভূত্বকের ভেতর ৩২ গুণ বেশি শক্তিশালী আর ভূপৃষ্ঠে এই তীব্রতার পরিমাণ ১০ গুণ বেশি হয়।

আন্তর্জাতিক জার্নাল নেচার জিওসায়েন্সে ১২ ধরে চলা এক গবেষণায় বলা হয়, দুটো প্লেটের পশ্চিমের অংশ লক জোন যেখানে দুটো প্লেট আটকে আছে। নড়াচড়া করতে পারছে না। কিন্তু প্রতিনিয়তই শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর পূর্বের অংশতে স্লো স্লিপ আর্থকোয়েক বা পিরিয়ডিক ভূমিকম্প আকারে কম্পন সৃষ্টি হচ্ছে। যে অংশে প্লেট শক্তি ছেড়ে দিচ্ছে সেটা আবার চাপ সৃষ্টি করছে বাংলাদেশ অংশে। শক্তি সঞ্চিত হতে হতে একসময় বড় আকারের ভূমিকম্পে ধারণ করবে। আর এমনটা হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, পূর্ব ভারতের আসাম, মনিপুর, মিজোরাম, মিয়ানমার সহ গোটা অঞ্চলের পরিস্থিতি খারাপ হবে। তবে ভূমিকম্পের মাত্রা, জনবসতির ঘনত্ব এবং স্থানীয় বাড়িঘর কি ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে দূর্যোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

এ বিষয়ে চুয়েটের আর্থকোয়েক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. আবদুর রহমান ভূঁইয়া সিভয়েসকে বলেন, 'সাধারণত বড় আর্থকোয়েকের আগে ছোট ছোট আর্থকোয়েক হয়ে থাকে। আমরা এভাবে চিন্তা করি, বড় কিছু ঘটার আগে ছোট ছোট কিছু ঘটনা ঘটে থাকে। বিভিন্ন কারণে আমাদের এই জোনটা এমনিতেই আর্থকোয়েক জোন হিসেবেই পরিচিত। এই ঘটনাগুলোকে ওয়ার্নিং হিসেবে নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত হতে হবে। পুরো বাংলাদেশেটা তিনটা প্লেটের সংযোগ স্থলে অবস্থান। এ কারণে ইউরেশীয় প্লেট এবং ইন্ডিয়ান প্লেট যেটাকে আমরা সাবস্ট্রাকশন জোন বলি এটা একটু বিপদজনক। যে কারণে অল্প মুভমেন্টে দেখা যায় বড় ধরনের আর্থকোয়েক হতে পারে। যেটা গত পরশু হলো। ৬.১ মাত্রা কিন্তু মোটেও কম না। চিটাগং জোনটা এটার ফোকাল পয়েন্ট থেকে ১৮০ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার দূরে ছিল। যার কারণে তেমন একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি কেবল দু একটা ভবন হেলে পড়ার খবর পেয়েছি। তবে এটা একটা ওয়ার্নিং। ভবিষ্যতে এই প্লেটের সংযোগস্থলে আরও বড় ধরনের আর্থকোয়েক হতে পারে। ন্যাচার আমাদেরকে জানাচ্ছে তোমরা প্রিপ্রেয়ার্ড হও তো আমাদের প্রিপ্রেয়ার্ড হইতে হবে। নইলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের। '

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়