Cvoice24.com

চট্টগ্রামে ভূমিকম্পে হেলে পড়লো চকবাজার-হালিশহরের দুই ভবন

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৫৭, ২৬ নভেম্বর ২০২১
চট্টগ্রামে ভূমিকম্পে হেলে পড়লো চকবাজার-হালিশহরের দুই ভবন

হালিশহরে হেলে পড়া ভবন।

চট্টগ্রামের হালিশহর ও চকবাজারে ভূমিকম্পের পর হেলে পড়েছে দুটি ভবন। একটি ভবন চকবাজারের কাপাসগোলা। অন্যটি হালিশহরে। হেলে গিয়ে ভবন দুটি ঠেকেছে পাশের ভবনে। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভবন দুটির বাসিন্দাসহ এলাকাবাসীরা। 

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে ভূমিকম্প অনুভূতের পর হালিশহর পুলিশ লাইনের পশ্চিম পাশের খাল পাড়ে নিউ এল ব্লকের তিন নম্বর লেইনের ১২ নম্বর ‘সুফিয়ান ভবন’ নামে ৬ তলা একটি ভবন পাশের একটি ভবনে হেলে পড়ে। যদিও ভবনটি ২০১৬ সালে একবার ভূমিকম্পের পর থেকেই পাশ্ববর্তী ভবনে হেলে পড়ে। শুক্রবারের ভোরের এই ভূমিকম্পে আরও বেশি হেলে পড়েছে পাশের ভবনে। এতে করে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ওই ভবনের বাসিন্দারা। 

ভবন মালিক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আবু সুফিয়ান জানান, ২০১৬ সালে এক ভূমিকম্পে ভবনটি পাশের ভবনে হেলে পড়ে। এরপর পর বিভিন্ন সময়ে ভূমিকম্পে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেই থেকেই তিনি সিডিএতে দৌঁড়ঝাপ করছেন। আবেদনের পর আবেদন করে ২০২০ সালে প্রকৌশলীর মারফত জানতে পারেন নির্ধারিত ফরম পূরণ করে জমা দিলেই কাজের প্রসেসিং শুরু হবে। তখন তিনি আবার নিয়মনুযায়ী ফরম পূরণ করে জমা দেন। পরে অথোরাইজড প্রকৌশলী তা ফরোয়ার্ড করে দেন ইন্সপেক্টরের কাছে। ইন্সপেক্টর এসে পরিদর্শন করে নোটিশে জানায়, বিল্ডিংটা ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে পড়েছে। এনিয়ে পরবর্তী অগ্রগতি জানতে চাইলে তারা আমাকে সব ঠিক আছে বলে দায় সারে। এভাবে তাদের দেনদরবার করতে থাকলে তারা ডিপার্টমেন্টে জরুরি কাগজপত্র পাঠিয়েছে বলে জানালেও আশানরূপ কোন অগ্রগতি হয়নি। সর্বশেষ গতকালও আমি এটি নিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান দোভাষ সাহেবের দ্বারস্থ হয়েছি। তিনি বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে হ্যান্ডওভার করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

এদিকে একইভাবে হেলে পড়েছে চকবাজার কাপাসগোলা সড়কের পাঁচ তলা একটি ভবন। ফরিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির ভবনটি ঠেকেছে পাশের তিনতলা ভবনে ছাদ পর্যন্ত। দুই ফুটের মতো ফাঁকা রয়েছে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত।

এতে আতঙ্কিত হয়ে দুই ভবনের লোকজনই বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই আতঙ্কের কথা জানিয়ে ভবন মালিককে অভিযোগ করেছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

ভবন মালিক মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ভবন হেলে পড়ার বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। এর জন্যে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নেয়া হবে শিগগিরই।

এছাড়া বহদ্দারহাটের সাবানঘাটা এলাকায় দুটি চারতলা ভবন একটি হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। 

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস সিভয়েসকে বলেন, আজকের ভূমিকম্পের পর নগরে তেমন কোনো ভবন নিয়ে সমস্যার কথা না শুনলেও চকবাজার এবং হালিশহরে একটি ভবন হেলে যাওয়ার বিষয়ে শুনেছি। আমরা ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন,ঝুঁকিপূর্ণ ভবন তো আসলে চিহ্নিত করে সিডিএ। তাদের একটি কমিটি আছে সেখানে বিশেষজ্ঞরা মিলে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে  জানালে আমরা এবিষয়ে উদ্যোগ নেই। তবে আজকে তো তেমন কোনো বিশেষ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা নাই। 

-সিভয়েস/আইএইচ

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়