Cvoice24.com

শিপইয়ার্ডে ৯ মৃত্যু, তদন্তে দুই কমিটি

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৭:৫৩, ১৫ আগস্ট ২০২৬
শিপইয়ার্ডে ৯ মৃত্যু, তদন্তে দুই কমিটি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের বিষক্রিয়ায় নয় শ্রমিকের মৃত্যুর পর ইয়ার্ডটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ থেকে গ্যাস অপসারণের কাজ চলছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসব তথ্য জানান শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান।

এক দুর্ঘটনায় নয় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয় ১১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শনিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে। সদস্য হিসেবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুরুন নাহার কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার স্থান ও মূল কারণ নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, গাফিলতি কিংবা দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে।

এ ছাড়া ইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।

শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে নয়জন সদস্য রয়েছেন।

শিল্প সচিব বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে এগারো সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নয় সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই সেক্টরটা আমাদের অত্যন্ত প্রমিজিং একটি সেক্টর। সরকার এ সেক্টরটিকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। সেই গুরুত্ব দিয়ে যা যা করা দরকার, তার অনেক কিছুই সেক্ষেত্রে করা হয়নি। যা করা দরকার এখন সরকার তা করবে।’

শিল্প সচিব আরও বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কমিটি এ দুর্ঘটনার কারণ এবং এমন ঘটনা যেন আর না হয়, সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে। আমরাও ভবিষ্যতে কোনো ইয়ার্ডে যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তা গুরুত্ব সহকারে দেখব।’

বিস্ফোরক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি ২৫ বছরের পুরোনো এমটি রাসি। ২৮০ মিটার দীর্ঘ ও ৪৩ মিটার প্রস্থের জাহাজটি এলএনজি পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।

গত বছরের জুলাইয়ে জাহাজটি সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে আনা হয়। প্রায় এক বছর ধরে জাহাজটি কাটার কাজ চলছিল। দুর্ঘটনার পর জাহাজটিতে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস পাওয়া যায়।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ফেরদৌস শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে নয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত, গ্রিন সনদ পাওয়া ফেরদৌস শিপ ইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি পেয়েছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। এ ঘটনায় গত মাসে শ্রম আদালতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়।

এদিকে, সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে গত তিন বছরে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে নয় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ইয়ার্ডগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।