Cvoice24.com

৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে বন্যা দীঘিনালায়, পাহাড়ধসে বন্ধ সড়ক যোগাযোগ

দীঘিনালা প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১১:১০, ২২ আগস্ট ২০২৬
৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে বন্যা দীঘিনালায়, পাহাড়ধসে বন্ধ সড়ক যোগাযোগ

মাত্র তিন ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টিতে হঠাৎ বদলে গেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার চিত্র। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকেছে, অন্যদিকে পাহাড়ধসে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়া ও নদ-নদীতে দ্রুত পানি বেড়ে সৃষ্টি হয়েছে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাত এর আগে রেকর্ড হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রবল বৃষ্টির প্রভাবে উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। পানির নিচে চলে গেছে আমনের খেত ও স্থানীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার রাত ১২টার পর বৃষ্টির তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা টানা বৃষ্টির পর ভোরের দিকে পাহাড়ি ছড়া ও নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সকাল হওয়ার আগেই বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।

দীঘিনালার চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় নাথ বলেন, রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল বুঝতে পেরেছি। কিন্তু সকালে উঠে দেখি ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। তিনি জানান, গত মাসের বন্যাতেও তাদের বাড়িতে পানি ওঠেনি। অথচ এবার মাত্র তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। পানিতে ঘরের অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা অরবিন্দ দে বলেন, রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে বের হয়ে দেখি চারদিকে পানি, পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেছে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু বৃষ্টির পানি নয়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। বোয়ালখালী ছড়ার পানি বেড়ে জামতলীর নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা জানান, রাতে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অল্প সময়ে এমন ভারী বৃষ্টিপাত চলতি মৌসুমে এর আগে রেকর্ড হয়নি।

বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা-মেরুং সড়কের কয়েকটি অংশ তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

মেরুং ইউনিয়নের বাঁচা মেরুং স্টিল ব্রিজ এলাকাতেও সড়ক ও সেতু পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা-লংগদু সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে কবাখালী ইউনিয়নের মাইনী ব্রিজসংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা-সাজেক সড়কেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে নতুন করে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির মধ্যে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থানেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় পাহাড়ের মাটি ও গাছপালা সড়কের ওপর পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইতোমধ্যে ধসে পড়া মাটি সরানোর কাজ শুরু করেছে। খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, ধসে পড়া অংশটি বেশ বড়। মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে সড়ক পুরোপুরি পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, রাতে মুষলধারে অবিরাম বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে দীঘিনালা-লংগদু ও দীঘিনালা-সাজেক সড়কের যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে।

তিনি জানান, পরিস্থিতির অবনতি হয়ে বন্যা দেখা দিলে তা মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।