Cvoice24.com

চন্দনাইশে জমজমাট পাঁঠা-ভেড়া-হাঁসের বাজার

নুরুল আলম, চন্দনাইশ
১৯:২৯, ১৫ আগস্ট ২০২৬
চন্দনাইশে জমজমাট পাঁঠা-ভেড়া-হাঁসের বাজার

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মনসা পূজাকে ঘিরে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জমে উঠেছে পাঁঠা, ছাগল, ভেড়া ও হাঁসের বাজার। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে মনসা পূজা। পূজাকে সামনে রেখে এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনা।

মনসা পূজার দিনে সনাতনী সম্প্রদায়ের অনেকেই দেবী মনসার উদ্দেশ্যে পাঁঠা, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস বলি দেন। এ কারণে পূজাকে ঘিরে প্রতি বছরই এসব প্রাণীর বিশেষ বাজার বসে চন্দনাইশে।

এবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা এলাকার গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বসেছে বড় বাজার। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা সেখানে পাঁঠা, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া উপজেলার দোহাজারী, রৌশনহাট, বাগিচাহাট, বাংলা বাজার ও বরমা কালী হাটেও বসেছে পাঁঠা-ছাগলের বাজার।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সরেজমিন গাছবাড়িয়া সরকারি স্কুল ও কলেজ মাঠের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় নানা আকৃতির পাঁঠা ও ছাগল নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। পছন্দের ছাগল কিনতে ক্রেতাদের চলছে দর-কষাকষি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পাঁঠা কিনতে দেখা গেছে অনেককেই।

বাজারে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের ছাগলের দাম হাঁকা হচ্ছে ২৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। পূজার আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকায় বেচাকেনাও বেশ জমে উঠেছে।

ছাগল ব্যবসায়ী রনজিত বলেন, ‘গাছবাড়িয়া খানহাট বাজারে কয়েকশ ব্যবসায়ী ছাগল নিয়ে এসেছেন। তাদের অনেকেই ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, পাবনা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই থেকে তিনশ করে ছাগল এনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছাগল কিনে বাজারে নিয়ে এসেছেন।

তার ভাষ্য, বাজারে ছোট-বড় সব ধরনের ছাগলই পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে ছাগলের দাম কিছুটা কম।

বাজারের আরও কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার পাঁঠা-ছাগলের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ফলে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা। বিশেষ করে মাঝারি আকারের ছাগলের চাহিদা এবার বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

নিজের ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে পাঁঠা কিনতে আসা অনুপম বলেন, ‘৩৫ হাজার টাকায় নিজের পছন্দের পাঁঠাটি কিনেছি। বাজারে পাঁঠা-ছাগলের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই আছে।’

অন্যদিকে চন্দনাইশ পৌরসভার দক্ষিণ গাছবাড়িয়া হরিনারপাড়া এলাকা থেকে পাঁঠা বিক্রি করতে আসা আবদুল গফুর ও বাচা মিয়া বলেন, ছাগলের ভূষিসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর পাঁঠা-ছাগল লালন-পালনে খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে সন্তোষজনক দাম পেলে তারা পাঁঠাগুলো বিক্রি করে দেবেন।

বিভিন্ন বাজারের ইজারাদাররা জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ সুযোগ-সুবিধাও। ফলে এবার বাজারগুলোতে প্রচুর দেশি-বিদেশি ছাগল ও ভেড়া এসেছে।

পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, চন্দনাইশের হাট-বাজারগুলোতে ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। ক্রেতাদের পছন্দের পাঁঠা বাছাই আর বিক্রেতাদের ভালো দামে বিক্রির প্রত্যাশায় জমে উঠেছে পুরো বাজার।