Cvoice24.com

অভিজাত হোটেলের জৌলুস ছেড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে রোটারি ক্লাব

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৭:১৫, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
অভিজাত হোটেলের জৌলুস ছেড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে রোটারি ক্লাব

অভিজাত হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁয় নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ৪২তম অভিষেক অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করেছে রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন চট্টগ্রাম। এ উপলক্ষে মহানগরের রৌফাবাদের তিনটি প্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিশুদের জন্য তিন মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ, ডায়াবেটিস মাপার মেশিন, রক্তচাপ পরিমাপের যন্ত্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রৌফাবাদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু বিদ্যালয়, সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) ও ছোটমণি নিবাসে এ আয়োজন করা হয়। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী এ অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

সাধারণত রোটারি ক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠান অভিজাত হোটেল বা রেস্তোরাঁয় আয়োজন করা হলেও এবার প্রচলিত সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসে সংগঠনটি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চাহিদা জানার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।

অনুষ্ঠানের চেয়ারম্যান পিপি রোটারিয়ান ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা বসবাস করে। তাদের শুধু অন্ন ও আশ্রয় নয়, প্রয়োজন ভালোবাসা, মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতি। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে তাদের জীবনমান আরও উন্নত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু অভিষেক অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন নয়; বরং শিশুদের জীবন ও চ্যালেঞ্জগুলো কাছ থেকে বোঝা এবং ভবিষ্যতে তাদের জন্য কী করা যায়, তা চিহ্নিত করা। পরিবারের সদস্য ও তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে তাদের মধ্যে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

ক্লাবের পক্ষ থেকে তিন প্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিশুদের জন্য তিন মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ পরিমাপের যন্ত্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী দেওয়া হয়। ভবিষ্যতেও শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী।

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ও উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিষ্ঠানে একটি পুরোনো গাড়ি রয়েছে, যা সব সময় জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। ছেলে ও মেয়েশিশুদের পরিচর্যার জন্য পৃথক দুজন নার্স থাকলে সেবা কার্যক্রম আরও সহজ হতো।

তিনি আরও বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান চিকিৎসকেরা প্রতি সপ্তাহে কিংবা মাসে অন্তত একবার বিনা মূল্যে শিশুদের চিকিৎসাসেবা দিলে প্রতিষ্ঠানটি উপকৃত হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর পাশাপাশি এ ধরনের সহযোগিতা শিশুদের সুস্থতা ও স্বাভাবিক বিকাশে সহায়ক হতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি (১৯৯৫-৯৬ ও ২০১০-১১) এবং বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য রোটারিয়ান পিপি ড. এ এফ ইমাম আলী, পিএইচএফ।

তিনি বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রোটারির অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন অন্যদেরও মানবিক কাজে উৎসাহিত করবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্থার সহকারী কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর এবং দৈনিক পূর্বকোণ লিমিটেড চেয়ারম্যান রোটারিয়ান পিপি জসীম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে রোটারির এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের শিশুরা যেন অন্য শিশুদের মতো বেড়ে উঠতে পারে এবং সবার সঙ্গে মিশে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বেড়ে উঠে অনেকে চিকিৎসক হয়েছেন, বিভিন্ন ভালো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। একসময় যারা সমাজে অবহেলিত ছিল, তাদের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই বড় অর্জন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত শিশুদের পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোটারি ক্লাবের এ উদ্যোগ শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় সহায়ক হবে।

চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা, পরিচর্যা ও পুনর্বাসনে কাজ করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান ফজলুল করিম চৌধুরী, আইপিপি রোটারিয়ান আফিয়া খাতুন মীরা, রোটারিয়ান সাজেদা বেগম, রোটারি ক্লাব অব চট্টগ্রাম সেন্ট্রালের প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমানসহ বিভিন্ন রোটারি ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, রোটারিয়ান, রোটার্যাক্ট ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও রোটারি ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।