ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন বরখাস্ত
সিভয়েস২৪ ডেস্ক
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগে আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। হারুন-অর-রশিদের বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি।
এ ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি কিংবা সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।
পরে ২২ জুন একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ৬ আগস্ট জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এরপর ২০ আগস্ট তাকে দ্বিতীয়বারের মতো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে এবারও তিনি কোনো জবাব দেননি।
বিভাগীয় মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর হারুন-অর-রশিদকে চাকরি থেকে বরখাস্তের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চায় সরকার। গত ১ অক্টোবর কমিশন তাকে বরখাস্তের সুপারিশ করে। পরে ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোরশেদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
প্রজ্ঞাপনে একই অভিযোগে আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের কথা জানানো হয়েছে। তারা হলেন সাবেক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) শ্যামল কুমার মুখার্জী, সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন ও মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাসান।
এ ছাড়া সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিভাগীয় তদন্ত, পিএসসির সুপারিশ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সব খবর















