Cvoice24.com

দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে হেমি হোসেনের বিজয়

সিভয়েস২৪ ডেস্ক
১৭:৫৪, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে হেমি হোসেনের বিজয়

বৈশ্বিক নেতৃত্বে অসামান্য প্রভাব ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘অক্সফোর্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দূরদর্শী উদ্যোক্তা ও লিডারশিপ স্ট্র্যাটেজিস্ট হেমি হোসেন।

গত ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে মানবসম্পদ, সংগঠন এবং কমিউনিটির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তার নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি প্রদানের জন্যই এই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

অক্সফোর্ডে এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও হেমি হোসেনের সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা থেকে। জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং সম্ভাবনার প্রতি বিশ্বাস নিয়ে তিনি বড় হয়েছেন। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য অন্বেষণে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়— যেখানে অনিশ্চয়তাই ছিল সঙ্গী, কিন্তু সাহস ছিল অবিচল।

বাংলাদেশ থেকে মেলবোর্ন— তার এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। অস্ট্রেলিয়ায় আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস ইনফরমেশন সিস্টেমে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি টেলস্ট্রা, এমওয়াইওবি এবং এএনজেডের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তবে প্রচলিত চাকরির নিরাপত্তা ছেড়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্তই বদলে দেয় জীবনের মোড়।

বর্তমানে তিনি ‘নেক্সজেন গ্লোবাল গ্রুপ’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। শিক্ষা, রিক্রুটমেন্ট, ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি, এডটেক ও বিনিয়োগ খাতে বহুজাতিক এই প্রতিষ্ঠানটি অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে সফলতার সঙ্গে কাজ করছে। মানবসম্পদ, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে তিনি ভবিষ্যৎমুখী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে চলেছেন।

একজন গ্লোবাল কোচ, কি-নোট স্পিকার এবং বেস্টসেলার লেখক হিসেবে হেমি হোসেনের প্রভাব এখন ব্যবসার জগৎ অতিক্রম করে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। তার কোচিং প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রো উইথ হেমি’ এর মাধ্যমে হাজারো মানুষকে তিনি চাকরি থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে অনুপ্রাণিত ও সহায়তা করছেন। এ অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় তার আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার বই ‘ফায়ার ইউর বস’, যা ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিকাশের এক শক্তিশালী নির্দেশিকা হিসেবে ব্যাপক সমাদৃত। ডিজিটাল যুগে নেতৃত্ব ও সঠিক মানসিকতা নিয়ে তার দিকনির্দেশনা আজ বিশ্বজুড়ে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করছে।

সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও হেমি হোসেন ‘গ্লোবাল ইয়ুথ মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস’র বোর্ড সদস্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী তরুণদের ক্ষমতায়ন ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কাজ করছেন। তার বিশ্বাস, সুস্থ মনই একটি শক্তিশালী সমাজ নির্মাণের ভিত্তি।

‘অক্সফোর্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ প্রাপ্তি শুধুমাত্র হেমি হোসেনের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং বাংলাদেশের এক মফস্বল শহর থেকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে তার পৌঁছানোর সেই অসাধারণ যাত্রার স্বীকৃতি। তার পথচলা উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার এক অনন্য উদাহরণ।

দেশ থেকে বিদেশ; অনিশ্চয়তা থেকে বৈশ্বিক প্রভাব— এই দীর্ঘ যাত্রায় তার লক্ষ্য এখনও স্পষ্ট। তিনি মানুষকে নিজের ওপর বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করতে শেখানো এবং নিজের কাঙ্ক্ষিত জীবন গড়ে তুলতে সাহায্য করে যাচ্ছেন।