Cvoice24.com

প্রবাসীদের প্রাণের মিলনমেলায় সম্প্রীতির উৎসব
জেনেভার লেকপাড়ে চট্টগ্রামের ছোঁয়া

জেনেভা প্রতিনিধি
১০:৩৬, ২৭ জুলাই ২০২৬
জেনেভার লেকপাড়ে চট্টগ্রামের ছোঁয়া

প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এক টুকরো বাংলাদেশ। আর সেই বাংলাদেশকে আরও আপন করে তুলতেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের মনোরম লেকপাড়ে অনুষ্ঠিত হলো চট্টগ্রাম সমিতির বর্ণাঢ্য মিলনমেলা ও গ্রিল পার্টি। সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান যেন একদিনের জন্য প্রবাসে গড়ে তুলেছিল ছোট্ট এক চট্টগ্রাম।

রবিবার (২৬ জুলাই) আয়োজিত এই মিলনমেলায় সুইজারল্যান্ডের জুরিখ, ফ্রাইবুর্গ, লোজানসহ বিভিন্ন শহর এবং প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্স থেকে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন। পরিচিত-অপরিচিত মুখগুলো একত্রিত হয়ে ভাগাভাগি করে নেন স্মৃতি, আনন্দ আর আপনজনের উষ্ণতা।

দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল শিশুদের প্রাণবন্ত খেলাধুলা, লটারি, মতবিনিময় সভা, আড্ডা এবং মধ্যাহ্নভোজ। লেকের নির্মল পরিবেশে অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় সুস্বাদু মুরগি, খাসি ও সসেজের গ্রিল, সঙ্গে ছিল রুটি, সালাদ ও তাজা তরমুজ। প্রবাসের মাটিতে দেশীয় স্বাদ আর আন্তরিক আতিথেয়তায় দিনটি হয়ে ওঠে সবার জন্য স্মরণীয়।

চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সসীম জিসির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সুইজারল্যান্ডের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। বক্তব্য দেন শ্যামল খান, চট্টগ্রাম সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক পলাশ বড়ুয়া, উপদেষ্টা অরুণ বড়ুয়া, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ আরাফাত, মোহাম্মদ রফিক, সাইফুল ইসলাম, জয় রায়, অশোক সরকার রবি, আয়য়ান জুনায়েদ আবদুর রব, দেব নাথ, সুনীল চক্রবর্তীসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রজন্মকে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করাতেও এমন মিলনমেলার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে লটারি প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন তারেক আল মাহমুদ, দ্বিতীয় পুরস্কার পান আব্দুর রব এবং তৃতীয় পুরস্কার লাভ করেন ফ্রান্স থেকে আগত অতিথি মিতু ডালি। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হলে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে তাদের অভিনন্দিত করেন।

সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আকবর আলী উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রবাসে এ ধরনের মিলনমেলা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি আমাদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। নতুন প্রজন্মের কাছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও বাংলাদেশের মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়ার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।’

দিনশেষে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, স্মৃতিচারণ এবং আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে মিলিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা। প্রবাসের মাটিতে এই মিলনমেলা প্রমাণ করে, ভৌগোলিক দূরত্ব যতই হোক, হৃদয়ের টান আর শেকড়ের ভালোবাসাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সুতোয় গেঁথে রাখে।