Cvoice24.com

দেড় লাখ সদস্যের গ্রুপ ‘বান্দরবানবাসী’: প্রশাসনও সাড়া দেয় কমেন্টেই

সিভয়েস২৪ ডেস্ক
১৬:৫২, ২৭ জুলাই ২০২৬
দেড় লাখ সদস্যের গ্রুপ ‘বান্দরবানবাসী’:  প্রশাসনও সাড়া দেয় কমেন্টেই

বান্দরবানে ‘বান্দরবানবাসী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ পরিণত হয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্মে, যেখানে হারানো জিনিস উদ্ধার থেকে শুরু করে বন্যার তথ্য বিনিময়— সবকিছুই হয় এক জায়গায়।

এই ফেসবুক গ্রুপে বর্তমানে সদস্যসংখ্যা দেড় লাখেরও বেশি। ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই পেশায় সাংবাদিক ফরিদুল আলম সুমন ‘বান্দরবান পৌরবাসী’ নামে ছোট পরিসরে গ্রুপটি চালু করেছিলেন। পরে পরিধি বাড়ায় নাম বদলে হয় ‘বান্দরবানবাসী’, যুক্ত হন সাতজন স্বেচ্ছাসেবক মডারেটর।

গ্রুপে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, সদর হাসপাতাল, পৌরসভা ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল পাতাও যুক্ত রয়েছে। কোনো এলাকার বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সমস্যার পোস্ট দিলে কমেন্টেই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে বান্দরবানে বন্যার সময় এই গ্রুপের সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। নাগরিক সাংবাদিকরা ঘণ্টায় ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতি, রাস্তাঘাটের অবস্থা ও এলাকাভিত্তিক সমস্যার হালনাগাদ তথ্য দিয়েছেন। মাটি ধসে বা গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্যও জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ নিজে। এসব পোস্টের মাধ্যমে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিক তথ্য পান বলে জানিয়েছেন গ্রুপ সংশ্লিষ্টরা।

গ্রুপে সাধারণ নাগরিকদের সমস্যা সমাধানের একাধিক দৃষ্টান্তও রয়েছে। নোয়াখালীর পর্যটক মো. সারোয়ার সাইফুল চিম্বুক পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে হাতঘড়ি হারিয়ে ফেলেছিলেন। গ্রুপে পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অচেনা এক সদস্য ঘড়িটি খুঁজে বের করে ফিরিয়ে দেন। জরুরি রক্তের প্রয়োজনে পোস্ট দিয়ে ও-পজিটিভ রক্ত পাওয়া, দুর্গম খেয়াং ছাত্রাবাসের জন্য শিক্ষক খুঁজে পাওয়া, সিএনজিতে পাওয়া অচেনা মোবাইল ফোনের মালিক শনাক্ত করা এবং কোরবানির ঈদে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি পশু বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে এই গ্রুপের মাধ্যমে।

গ্রুপ অ্যাডমিনের ভাষ্যমতে, অন্যান্য শহরে দেওয়ালে দেওয়ালে বাসাভাড়া বা টিউটরের বিজ্ঞাপন দেখা গেলেও বান্দরবানে তা দেখা যায় না, কারণ বাসিন্দারা এসব প্রয়োজন এই গ্রুপে পোস্ট দিয়েই মিটিয়ে নেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রুপের উদ্যোগে জেলার প্রথম অনলাইন উদ্যোক্তা মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেন ২৫ জন উদ্যোক্তা। একই বছর ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে আয়োজন হয় প্রেডিকশন গেইম, আর ২০২৫ সালে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মার্ট নেটিজেন’ কুইজ প্রতিযোগিতা।

চলতি বছরের জুন থেকে গ্রুপের উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘বান্দরবানবাসী ব্লাড ডোনার ডাটাবেইজ’ নামের একটি ওয়েব-অ্যাপ। এর মাধ্যমে তিন ক্লিকে রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় এবং রক্তদানে আগ্রহীরা এক মিনিটে নিবন্ধন করতে পারেন। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই সেবা সংক্রান্ত কিউআর কোডও বসানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুমন। গ্রুপের বিস্তারিত তথ্যের জন্য চালু করা হয়েছে পৃথক একটি ওয়েবসাইটও।

পাহাড় সব খবর