শ্রমিক-কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে অচল চট্টগ্রাম বন্দর
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) মুখোমুখি অবস্থানের জেরে আবারও অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। নৌ পরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে ধর্মঘটের ডাক দেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন।
বন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্দরের জেটি এলাকায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ চলছে। কিছু শ্রমিক কাজে যোগ দিতে এলেও আন্দোলনরত নেতাকর্মীরা তাদের গেটে অবস্থান করতে দিচ্ছেন না। যারা নির্দিষ্ট দায়িত্বে ভেতরে যাচ্ছেন, তাদের দ্রুত প্রবেশ করানো হচ্ছে। বন্দরজুড়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, 'নৌ পরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে আমরা ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু বদলি প্রত্যাহার, মামলা বন্ধ এবং এনসিটি ইজারা নিয়ে সরকার কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আবার কর্মসূচিতে ফিরেছি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। এটি শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন।'
অন্যদিকে বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে দুই শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করে চবক। সকাল সাড়ে নয়টায় এ সভা শুরু করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শুরু হয়নি বলে জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্ভরযোগ্য সূত্র।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, '১০টার পর করে বৈঠক শুরু হয়েছে। সভায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। চেয়ারম্যান স্যার সবার কথা শুনচ্ছেন।'
অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, 'বন্দর সচল রাখতে আমরা আলোচনার আহ্বান করা হয়। কিন্তু যারা মূল আন্দোলনকারী, তারা বৈঠকে বসতে রাজি হননি। এভাবে কার্যক্রম বন্ধ থাকলে রপ্তানি-আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।'
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ইব্রাহিম খোকন বলেন, 'চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বস্তরে আমাদের ধর্মঘট চলছে। বন্দর চেয়ারম্যান নিজেকে সফল দেখাতে আউটসোর্সিংয়ের লোক নিয়ে মিটিং করছে। আমরা শুনেছি, তাকে (বন্দর চেয়ারম্যান) বদলি করা হয়েছে। তা যদি সত্যি হয়ে থাকে, আমরা চাই তা অনতিবিলম্বে কার্যকর হোক।'
উল্লেখ্য, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া বন্ধ, আন্দোলনে জড়িত শ্রমিকদের বদলি ও মামলা প্রত্যাহার এবং বন্দর চেয়ারম্যান অপসারণসহ চার দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় কর্মবিরতি চলছে। সর্বশেষ কর্মসূচিতে শ্রমিক নেতা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নতুন করে গভীর হয়েছে।
অর্থ-বাণিজ্য সব খবর















