কর্ণফুলী নদীর জায়গা লিজ:
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল
নিউজ ডেস্ক
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কর্ণফুলী নদীর জায়গা লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এইচআরপিবির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
কর্ণফুলী নদী রক্ষায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার রায়ে হাইকোর্ট একাধিক নির্দেশনা দেন। রায়ে জরিপ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণ, নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জলধার সংরক্ষণ আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আদালতের ওই নির্দেশনা অমান্য করে জরিপে নদী হিসেবে চিহ্নিত কর্ণফুলী নদীর একটি অংশ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা করে এইচআরপিবি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মেম্বার (ফিন্যান্স) মোহাম্মদ শহিদুল আলম, মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং) কমোডর কাউসার রশিদ এবং সম্পত্তি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে—কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
এছাড়া আদালত পৃথক আদেশে ফিরিঙ্গি বাজার মৌজার বিএআরএস দাগ নম্বর ৬০১–সংক্রান্ত জমির বিষয়ে পরবর্তী সব কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্টের রায়ে কর্ণফুলী নদীর সীমানা অনুযায়ী নদী সংরক্ষণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নদীর অবস্থান পরিবর্তন বা নদী দখলের বিরুদ্ধে জলধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও আদালতের রায় অমান্য করে কর্ণফুলী নদীর জায়গা লিজ দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়েছিল এবং স্থিতাবস্থা আদেশ দেওয়া হয়।
এইচআরপিবির পক্ষে আবেদনকারী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া
অর্থ-বাণিজ্য সব খবর















