Cvoice24.com

পতেঙ্গায় নিরাপদ পানি সরবরাহে নতুন মডেল : আমির খসরু

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৭:২৪, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পতেঙ্গায় নিরাপদ পানি সরবরাহে নতুন মডেল : আমির খসরু

চট্টগ্রাম মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ পতেঙ্গার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে নিরাপদ পানি সরবরাহে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) নতুন মডেলের যাত্রা শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় দুই ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মহানগরের হোটেল রেডিসন ব্লুতে এ-সংক্রান্ত তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নতুন মডেলে কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে পানি সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তবে শুধু সরকারের পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি মডেল গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। নতুন মডেলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করবে। উদ্যোগটিতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।

চট্টগ্রাম ওয়াসা জানায়, পাইলট প্রকল্প শুরুর আগে ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানির চাহিদা ও বর্তমান সরবরাহব্যবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। এরপর ওই মূল্যায়নের ভিত্তিতে উদ্ভাবনী পানি সরবরাহ মডেল পরীক্ষা ও বাস্তবায়ন করা হবে।

চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ খাবার পানি পাওয়ার সুযোগ সীমিত। দুটি ওয়ার্ডের মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন নেটওয়ার্ক পৌঁছেছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, অধিকাংশ বাসিন্দা বর্তমানে এলাকার ৮৫ থেকে ১১০টি বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানি কেনেন। এতে তাদের ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতেও লবণাক্ততার মাত্রা বেশি। পরীক্ষায় পানিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত লবণাক্ততা পাওয়া গেছে, যেখানে জাতীয় নিরাপদ সীমা ১ হাজার পিপিএম।

সমঝোতা স্মারকে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ুবিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন এতে সাক্ষী ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন সমস্যার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।