Cvoice24.com

কানাডার ব্যবসায়ীদের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান মেয়র শাহাদাতের

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৮:৪৪, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানাডার ব্যবসায়ীদের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান মেয়র শাহাদাতের

চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে কানাডার সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কানাডার লাসাল—এমার্ড—ভার্দ্যাঁ আসনের সংসদ সদস্য ও জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রীর সংসদীয় সচিব ক্লদ গুয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে চট্টগ্রামের জ্বালানি সম্ভাবনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চট্টগ্রামে একটি কানাডীয় বিশেষায়িত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

প্রস্তাবিত উদ্যোগের আওতায় চট্টগ্রামে বড় একটি তেল শোধনাগার স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণের সক্ষমতা বাড়ানো, পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করার লক্ষ্য রয়েছে।

বৈঠকে কানাডা থেকে দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের সম্ভাবনাও উঠে আসে। কানাডার জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক সক্ষমতাকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কানাডার মতো জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, লক্ষ্য শুধু চট্টগ্রামের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়; বরং চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে এমন জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করা, যা দেশের শিল্প, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে।

মেয়র আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। তাই প্রস্তাবিত উদ্যোগকে শুধু চট্টগ্রামকেন্দ্রিক প্রকল্প হিসেবে না দেখে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে এর কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং জাতীয় আমদানি-রপ্তানি ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় এর গুরুত্বের বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

প্রস্তাবিত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভবিষ্যতে তেল শোধনাগারের পাশাপাশি জ্বালানি সংরক্ষণ ও বিতরণ অবকাঠামো, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবাসহ বিভিন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। এতে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ ও কানাডার সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, জ্বালানি কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই, বিনিয়োগ কাঠামো, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিয়ে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

তবে প্রস্তাবিত কানাডীয় বিশেষায়িত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চলটি এখনো আলোচনা ও প্রাথমিক উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে এর বাস্তব কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।